হলের কাজ বন্ধ করে সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে - অভিযোগ জবি ছাত্রশক্তির

হলের কাজ বন্ধ করে সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে - অভিযোগ জবি ছাত্রশক্তির
ছবির ক্যাপশান, ছবি: জাগরণ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) হল নির্মাণকাজে বাধা,বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ও সম্পূরক বৃত্তি ইস্যুতে জবি প্রশাসনের প্রতারণা এবং হল নির্মানকাজেবাধা দিয়ে সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জবি ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা।

১৪  জুন রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্ত্বরের সামনে বিশেষ বৃত্তি বাস্তবায়ন ও বাজেট বৃদ্ধির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব মন্তব্য করেন ছাত্রশক্তিনেতারা।

 

এসময় জবি ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব শাহিন মিয়া বলেন, “পুরান ঢাকার দুটি হলের কাজ স্থানীয় মানুষ দিয়ে বারবার বন্ধ করা হচ্ছে। কোন দলের ইন্ধনে এগুলো হচ্ছে আমরা সেটা স্পষ্ট জানি। এই চক্রান্ত যদি বন্ধ না হয় তাহলে আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে সেটা স্পষ্ট করব। আপনারা কাজ বন্ধ করে সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার যে হীন চেষ্টা করছেন, এটা কিন্তু ভালো হবে না।”

 

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকটে ভুগছেন। তাই হল নির্মাণকাজে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা মেনে নেওয়া হবে না।

 

জবি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, “প্রতিষ্ঠার ১৬০ বছরের ইতিহাসে যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করেছে। ফ্যাসিবাদী আমলে আমরা দেখেছি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও জবির বাজেট ছিল একেবারে নিচের দিকে।”

 

তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বৃদ্ধি এবং সম্পূরক বৃত্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে স্বচ্ছতা দেখায়নি।


ফয়সাল মুরাদ বলেন, “কমিটমেন্ট অনুযায়ী আমাদের বাজেট ১০০ কোটি টাকা বাড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু সেখানে সম্পূরক বৃত্তির জন্য মাত্র ১০ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। ট্রেজারারের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, তৎকালীন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পূরক বৃত্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিল। কিন্তু সেটি কখনো শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।”

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) এ বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। অতীতে প্রশাসনের মদদপুষ্ট ছাত্রসংগঠনগুলোকে কোটি কোটি টাকা দেওয়া হলেও তারা এখন এসব বিষয়ে কোনো কথা বলছে না।”

 

ছাত্রশক্তির নেতারা দ্রুত হল নির্মাণকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিশ্রুত সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি হল নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।


সম্পর্কিত নিউজ