{{ news.section.title }}
তারেকের দুই গালে জুতা মারো’ বনাম ‘জামাত-শিবির ধর্ষক’ চবিতে মুখোমুখি ছাত্রদল-শিবির
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেন। রোববার (১৪ জুন) রাত ১০টার দিকে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুম ও অপহরণের নাটক সাজানোর’ অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করে শাখা ছাত্রদল। মিছিলটি জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে সোহরাওয়ার্দী মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা “জিয়ার সৈনিক এক হও, লড়াই কর”, “জ্বালিয়ে দাও, গুঁড়িয়ে দাও ধর্ষকদের আস্তানা”, “জামাত-শিবির ধর্ষক, ধর্ষক”, “ধর্ষকদের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান। তিনি বলেন, “আমরা সহাবস্থান চাই, তবে কোনো ধর্ষককে মেনে নেব না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আমরা এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”
এদিকে বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর হিজাব ও পর্দা নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে শাখা ছাত্রশিবির। মিছিল শেষে জিরো পয়েন্টে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা “তারেকের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে”, “মনিরের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে”, “গদি হবে খানখান, হিজাব নিয়ে দিলে টান”, “হিজাব নারীর অধিকার”, “বিএনপি-ছাত্রদল ধর্ষক, ধর্ষক”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, “জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দাঁড়িয়ে একজন সংসদ সদস্যের হিজাব নিয়ে মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাই এবং ভবিষ্যতে কোনো পোশাক নিয়ে যেন এ ধরনের মন্তব্য না করা হয় সে আহ্বান জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহাবস্থানের রাজনীতি চাই। মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ বা হেয় করে বক্তব্য দেওয়া কাম্য নয়।”
অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে অতীতে অবৈধভাবে সিট বণ্টনের অভিযোগ তুলে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়। দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন সংগঠনটির নেতারা।
পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য জিরো পয়েন্ট এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।