{{ news.section.title }}
রুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বিতর্কে নতুন উত্তেজনা: প্রমাণসহ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ, গণভোটের জোরালো দাবি
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য ও গোপন রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রশাসনের সুস্পষ্ট অবস্থান চেয়ে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছে।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে ছাত্ররাজনীতি চালুর উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বহিষ্কার, ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট জারি করা রাজনীতি নিষিদ্ধসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের পক্ষে প্রশাসনের স্পষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করা এবং আগামী ১০ দিনের মধ্যে রুয়েটে ছাত্ররাজনীতি থাকবে কি না সে বিষয়ে গণভোট আয়োজন।
সম্প্রতি তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদাত হোসেনের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ভাইরাল হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। পোস্টে তিনি নিজেকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের একটি শাখার সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। যদিও পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন, তার ওই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রুয়েট নয়, বরং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (০২ মে) দুপুর প্রায় ১টা ২০ মিনিটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে উপস্থিত হয়ে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকারের কাছে লিখিত অভিযোগপত্র ও সংগৃহীত বিভিন্ন প্রমাণ জমা দেন। অভিযোগপত্রে ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য ও গোপন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার নানা দিক তুলে ধরা হয়। প্রশাসন অভিযোগ ও প্রমাণ গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
একই সময়ে শিক্ষার্থীরা গণভোট আয়োজনের অগ্রগতি সম্পর্কেও প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা চান। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিরাত সাফিন তূর্য জানান, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে পূর্বঘোষিত তিন দফা দাবির অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি নতুন প্রমাণও প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসন গণভোট আয়োজনের লক্ষ্যে শিক্ষক-সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের আশ্বাস দিয়েছে, যা গণভোটের নীতিমালা, সময়সূচি ও প্রয়োজনীয় কাঠামো নির্ধারণ করবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত ও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন। তাদের মতে, রুয়েটে স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থান এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।