{{ news.section.title }}
জুলাই হামলায় অভিযুক্তদের শাস্তি কমানোয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ‘প্রহসনমূলক’: জাকসু
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শাস্তি হ্রাস এবং আপিলের মাধ্যমে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)।
বুধবার (১৭ জুন) জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো. মাজহারুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল শিক্ষার্থীদের অধিকার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক চেতনা রক্ষার সংগ্রাম। আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও দমন-পীড়নের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ তদন্ত ও অভিযোগ পর্যালোচনার ভিত্তিতে যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, আপিলের নামে তা শিথিল করা ন্যায়বিচারের চেতনাকে আঘাত করেছে।
জাকসু নেতারা বলেন, এ সিদ্ধান্ত আহত, নির্যাতিত ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচারের শামিল। একই সঙ্গে এটি জুলাইয়ের আত্মত্যাগের ইতিহাসকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। প্রশাসন একদিকে জুলাইয়ের চেতনা ধারণের দাবি করলেও অন্যদিকে অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে নমনীয়তা প্রদর্শন করে দ্বৈত অবস্থানের পরিচয় দিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণকারী এবং দমন-পীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তি কমিয়ে দেওয়া কিংবা অব্যাহতি প্রদান প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
জাকসুর দাবি, কোনো আপিল প্রক্রিয়া তখনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে যখন তা স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। কিন্তু কোন তথ্য-প্রমাণ, কী মানদণ্ড এবং কোন যুক্তির ভিত্তিতে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে প্রশাসন শিক্ষার্থীসমাজের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোর পুনর্বাসনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উদ্বেগজনক। এর ফলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হবে এবং ভবিষ্যতে দায়মুক্তির সংস্কৃতি উৎসাহিত হতে পারে।
এ অবস্থায় জাকসু অবিলম্বে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীসমাজ এ বিষয়ে সোচ্চার থাকবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।