{{ news.section.title }}
বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘর্ষ নতুন করে তীব্র হওয়া এবং কুয়েত ও বাহরাইনকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বুধবার সকালের লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং শান্তি আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় থাকায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি বিবেচনায় তেলের দাম বাড়িয়ে মূল্য নির্ধারণ করছেন।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ১ দশমিক ০৫ ডলার বা ১ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৭ দশমিক ০৫ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ০১ ডলার বা ১ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ৯৪ দশমিক ৭৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের দিনও দুই ধরনের তেলের দাম এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের কেশম দ্বীপ। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরান থেকে কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়। তবে বেশিরভাগ হামলাই লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই প্রতিহত করা হয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কেশম দ্বীপে ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, কুয়েতের দিকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ভেঙে পড়ে অথবা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে বাহরাইনের দিকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মার্কিন সেনারা যৌথভাবে ভূপাতিত করে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে পাঠানো কয়েকটি ড্রোনও ধ্বংস করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা থেকেই বাজারে অতিরিক্ত ঝুঁকি মূল্য (রিস্ক প্রিমিয়াম) যোগ হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বৈশ্বিক তেলের মজুতও তুলনামূলক কম অবস্থায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে যে গ্রীষ্মকালীন চাহিদা বৃদ্ধির সময় বিশ্ববাজারে সরবরাহ চাপ আরও বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংঘাত তেলের বাজারকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও দুই পক্ষের বক্তব্যে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার আলোচনায় অগ্রগতির কথা বললেও তেহরান জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কার্যকর কোনো যোগাযোগ হয়নি। ফলে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এখন তেলের দামের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে দুটি বিষয়ের ওপর- হরমুজ প্রণালি কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনা আদৌ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না। যদি সংঘাত আরও বিস্তৃত হয় বা তেল পরিবহনে নতুন বাধা সৃষ্টি হয়, তাহলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দ্রুত ১০০ ডলারের ঘর অতিক্রম করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন অনেক বিশ্লেষক।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত টানা সপ্তম সপ্তাহের মতো কমেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির মজুত প্রায় ৬৮ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ার এই তথ্যও তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করছে।
জ্বালানি বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতি না হলে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলে আগামী কয়েক সপ্তাহ আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে উচ্চ অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স