বেলুচিস্তানে অভিযানে ১৭ ‘জঙ্গি’ নিহত

বেলুচিস্তানে অভিযানে ১৭ ‘জঙ্গি’ নিহত
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত একাধিক পৃথক অভিযানে ১৭ জন ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানায়।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ মে ট্রেনে হামলার ঘটনার পর বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের লক্ষ্য ছিল ওই হামলা ও পরবর্তী সহিংসতার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।

 

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মাস্টাং, নুশকি, জেহরি, খুজদার এবং কেচ জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান চালানো হয়। নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চলাকালে একাধিক ‘জঙ্গি’ আস্তানায় প্রবেশ করে এবং সেখানে তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে মোট ১৭ জন নিহত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

 

পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ভাষ্যমতে, নিহতরা বিদেশি মদদপুষ্ট একটি সংগঠনের সদস্য ছিল এবং তারা ওই অঞ্চলে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক এবং প্রস্তুতকৃত ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

 

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে বেলুচিস্তানে রেললাইনের পাশে একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও ছিলেন এবং আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

 

বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতা, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে অস্থির একটি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের অভিযানের ক্ষেত্রে প্রায়ই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রেনলাইন ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হওয়া হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে এসব অভিযানে নিহতদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন দাবি থাকে, যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সবসময় সম্ভব হয় না।

 

আইএসপিআরের এই সর্বশেষ বিবৃতির পর বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও আলোচনায় এসেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে।


সম্পর্কিত নিউজ