{{ news.section.title }}
রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে নিহত ২৩, আহত শতাধিক
ইউক্রেনজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (৩ জুন) ভোররাত থেকে দেশটির বিভিন্ন শহর ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় চালানো এই হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন, ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং এএফপির সাংবাদিকদের তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত রাশিয়া মোট ৭৩টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬৫৬টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে বহু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ইউক্রেনীয় বাহিনী বেশ কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও হামলার ব্যাপকতা ছিল নজিরবিহীন।
রাজধানী কিয়েভের সামরিক প্রশাসন আগেই সতর্ক করেছিল যে, রাশিয়া আরও বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতি কিংবা শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাও ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দনিপ্রোতে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে একটি চারতলা আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ভবনটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। এতে অন্তত ১৬ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ৪২ জন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রাজধানী কিয়েভেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, কিয়েভে অন্তত সাতজন নিহত এবং প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন আবাসিক ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরের কয়েকটি এলাকায় আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে।
কিয়েভে অবস্থানরত এএফপির সাংবাদিকরা জানান, রাতভর বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠার পর একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণে পুরো শহর কেঁপে ওঠে। আতঙ্কিত বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, কম্বল ও ব্যাগ নিয়ে মেট্রো স্টেশন এবং ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ছুটে যান। অনেক পরিবারকে রাত কাটাতে হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদ এবং সামরিক সহায়তা দ্রুত সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনা, অস্ত্র গুদাম এবং কমান্ড সেন্টার। তবে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, হামলার বেশিরভাগ আঘাত বেসামরিক এলাকায় লেগেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কৌশল আরও জোরদার করেছে। বিশেষ করে ইরানি প্রযুক্তিনির্ভর ড্রোন এবং দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো, সামরিক ঘাঁটি ও নগর এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এর জবাবে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে।
যুদ্ধের চার বছরের মাথায় এসে উভয় পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমঝোতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে ইউক্রেনজুড়ে নতুন করে মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।