ইরানে টানা নবম রাত হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে টানা নবম রাত হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে টানা নবম রাতের সামরিক অভিযান সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের সামরিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা অবকাঠামো, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং সামরিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯ জুলাই রাত ১০টা (ইস্টার্ন টাইম) পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও দুর্বল করা এবং বেসামরিক নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং তাদের সামরিক অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়ানোও এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল।

 

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদস্য, আঞ্চলিক মিত্র এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের বিরুদ্ধে যে হামলা চালিয়েছে, তার জবাব হিসেবেই এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

 

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানও পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে জর্ডানে হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে।

 

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এখনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি কিছু বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। তবে ওয়াশিংটন বলছে, তাদের হামলা শুধুমাত্র সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে সেখানে সংঘাত অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে এবং ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপে পড়েছে।

 

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালালেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনা খুবই সীমিত বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

 

তথ্যসূত্র: রয়টার্স


সম্পর্কিত নিউজ