যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগর অঞ্চলে তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে

যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগর অঞ্চলে তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সম্প্রতি এশীয় জলসীমায় ইরানি পতাকাবাহী অন্তত তিনটি তেলবাহী জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে এবং সেগুলোকে তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে সরে যেতে বাধ্য করেছে। জাহাজগুলো ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছিল বলে জানা গেছে।

শিপিং খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সমুদ্রপথে ইরানের বাণিজ্য কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে। একই সময়ে ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী কিছু জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

 

হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংকট

পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। এই পথ দিয়ে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে এই রুটে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের ওপর সমুদ্রপথে চাপ আরও বাড়ানো হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

 

আটক ও গতিপথ পরিবর্তনের ঘটনা

বিভিন্ন জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি কয়েকটি ইরানি পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে বা সেগুলো আটক করা হয়েছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জাহাজগুলো হলো-

ডিপ সি: মালয়েশিয়ার উপকূলের কাছে দেখা গিয়েছিল, আংশিকভাবে অপরিশোধিত তেল বহন করছিল
সেভিন: প্রায় দশ লক্ষ ব্যারেল ধারণক্ষমতার জাহাজ, মালয়েশিয়ার কাছাকাছি এলাকায় দেখা যায়
ডোরেনা: প্রায় বিশ লক্ষ ব্যারেল তেল বহনকারী সুপার ট্যাংকার, দক্ষিণ ভারতের উপকূলে সর্বশেষ দেখা যায়

 

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড দাবি করেছে, জাহাজ ডোরেনা ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারের নজরদারিতে ছিল, কারণ এটি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার চেষ্টা করেছিল।

 

জাহাজ নিয়ে অনিশ্চয়তা

আরও একটি জাহাজ দেরিয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শিপিং সূত্র বলছে, এটি ভারতের পশ্চিম উপকূলের কাছে দেখা গিয়েছিল এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে তেল খালাস করতে পারেনি। এছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে অন্তত উনত্রিশটি জাহাজকে তাদের পথ পরিবর্তন করতে বা বন্দরে ফিরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

 

বৈশ্বিক প্রভাব ও উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের এলাকায় চলমান উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একজন সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখন মূলত উপসাগরীয় এলাকার বাইরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অভিযান পরিচালনা করছে, যাতে স্থানীয় সংঘর্ষ বা মাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকি কমানো যায়।


সম্পর্কিত নিউজ