মার্কিন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশে ইরানের সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মার্কিন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশে ইরানের সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবির ক্যাপশান, মার্কিন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশে ইরানের সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জবাবে জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

বুধবার গভীর রাতে ইরান একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে। জর্ডানে অবস্থিত আল-সালতি ও আল-আজরাক বিমানঘাঁটির আশপাশে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। একই সময়ে বাহরাইন ও কুয়েতের আকাশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হলে দেশ দুটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।

 

আইআরজিসি দাবি করেছে, হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এসব দাবির পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে।

 

নিরাপত্তাজনিত কারণে কুয়েত সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। বাহরাইনেও সতর্কতা জারি করা হয় এবং কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

 

এর আগে হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও নজরদারি স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। মার্কিন পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলা ছিল সামরিক লক্ষ্যবস্তু কেন্দ্রিক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার অংশ। অপরদিকে তেহরান এ হামলাকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

 

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও সিরিক অঞ্চলে হামলার তথ্য স্থানীয় সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

 

সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। আঞ্চলিক দেশগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগের আহ্বান জানাচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ