{{ news.section.title }}
বেলফাস্টে ছুরি হামলার পর বিক্ষোভ, আগুনে পুড়ল গাড়ি ও ভবন
যুক্তরাজ্যের উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে এক ছুরি হামলাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এক সুদানি নাগরিককে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ও ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে যেতে হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলফাস্টের বিভিন্ন এলাকায় শত শত বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তাদের অনেকের মুখ ঢাকা ছিল বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালে একটি বাস ও কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পাশাপাশি শহরের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি একটি ভবনেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীরা প্রথমে আবর্জনার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তারা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি ছুরি হামলাকে কেন্দ্র করে। ওই হামলায় একজন ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ এক সুদানি নাগরিককে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন মহলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা শেষ পর্যন্ত রাস্তায় সহিংস বিক্ষোভে রূপ নেয়।
শুধু বেলফাস্টেই নয়, শহরটির প্রায় ২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত অ্যানট্রিম এলাকাতেও লোকজন জড়ো হয়ে বিক্ষোভে অংশ নেয়। ফলে উত্তেজনা একাধিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও'নিল সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, মুখোশধারী লোকজনের পরিবারগুলোকে ঘরবাড়ি থেকে বের করে দিতে আগুন লাগানোর ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও কাপুরুষোচিত।
তিনি আরও বলেন, বর্ণবাদ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সহিংসতা যেখানেই ঘটুক না কেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। এসব হামলার কোনো অজুহাত বা বৈধতা থাকতে পারে না। উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাস্তায় এমন দৃশ্য কেউ দেখতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে জনগণকে শান্ত থাকার এবং গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন ইস্যু ঘিরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যে উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে, বেলফাস্টের ঘটনাও তারই একটি প্রতিফলন। তবে রাজনৈতিক নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, কোনো অপরাধের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পুরো একটি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা বা সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বর্তমানে বেলফাস্ট ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সংযমের আহ্বান জানানো হচ্ছে।