ইসরায়েলের নতুন উচ্ছেদ নির্দেশ, আরও দুই লেবানিজ শহরের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়তে বলা হলো

ইসরায়েলের নতুন উচ্ছেদ নির্দেশ, আরও দুই লেবানিজ শহরের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়তে বলা হলো
ছবির ক্যাপশান, ইসরায়েলের নতুন উচ্ছেদ নির্দেশ, আরও দুই লেবানিজ শহরের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়তে বলা হলো

লেবাননে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও নতুন করে উচ্ছেদ নির্দেশ জারি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের ঘাসানিয়েহ (Ghassaniyeh) এবং হৌমিন আল-ফাউকা (Houmine al-Faouqa) এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলি বাহিনীর এই নির্দেশকে নতুন হামলার হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে গত ১৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও এমন নির্দেশ জারি হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন রোববার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েল বিমান হামলা চালায়। ওই হামলার পর পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈরুতে হামলা শুধু লেবাননের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই প্রভাবিত করেনি, বরং মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়িয়েছে।

 

বৈরুত হামলার পর ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে উত্তর ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর জবাবে ইসরায়েলও ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালায়। ফলে লেবানন, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

 

এদিকে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় চলমান সামরিক অভিযান ও হামলার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। নতুন উচ্ছেদ নির্দেশের ফলে ঘাসানিয়েহ ও হৌমিন আল-ফাউকা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবারকে স্বল্প সময়ের মধ্যে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।

 

লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযান সম্প্রসারণ করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি। সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

মানবিক পরিস্থিতিও ক্রমেই সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে। ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি, অব্যাহত হামলা এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে বহু মানুষ জরুরি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। আন্তর্জাতিক মহলেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

 

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও নতুন করে উচ্ছেদ নির্দেশ এবং চলমান হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ