বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম

বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম
ছবির ক্যাপশান, প্রতীকী ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা এবং পরবর্তী পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে অপরিশোধিত তেলের বাজারে।

বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় ধরনের তেলের দামই প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮৩ সেন্ট বা ০.৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২.২৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ৬৮ সেন্ট বা ০.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮.৯৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

 

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে ইসরায়েল ও ইরান সরাসরি সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার ইঙ্গিত দিলে বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরে আসে। সেই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৭ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায় এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২৯ মের পর সবচেয়ে নিচের অবস্থানে পৌঁছায়।

 

তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক অভিযানের পর। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে হরমুজ প্রণালির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কাশম দ্বীপের সামরিক স্থাপনাও ছিল বলে জানা গেছে। এর পরপরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায় তেহরান, যা অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

 

বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে ওই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা নিরাপত্তা সংকট বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করে। বিনিয়োগকারী ও জ্বালানি ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

 

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে তেলের দামের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে কিংবা হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও দ্রুত বাড়তে পারে। একইসঙ্গে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

 

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা যদি আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে, তাহলে শুধু জ্বালানি বাজারই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আর্থিক বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক বাজার ও বিনিয়োগকারীরা।


সম্পর্কিত নিউজ