{{ news.section.title }}
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে, ২১ মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলা
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানসহ বিভিন্ন স্থানে থাকা মোট ২১টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
বুধবার ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিসহ একাধিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের দাবি, এসব হামলা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের সরাসরি প্রতিশোধ।
সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি AH-64 অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালির কাছে টহলরত হেলিকপ্টারটি একটি ইরানি ড্রোনের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়। যদিও দুই পাইলটকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটিকে “অযৌক্তিক আগ্রাসন” হিসেবে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের নির্দেশ দেন।
এরপর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্টেশন, সামরিক কমান্ড সেন্টার এবং নজরদারি অবকাঠামো। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল “আত্মরক্ষামূলক ও আনুপাতিক প্রতিক্রিয়া”।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জাস্ক, সিরিক, কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস এবং মিনাব এলাকার বিভিন্ন সামরিক ও যোগাযোগ স্থাপনা হামলার শিকার হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারসহ প্রায় ২০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কথাও বলা হয়েছে।
পাল্টা জবাবে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ বুশেহর প্রদেশের আকাশে একটি মার্কিন MQ-9 রিপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, যার মধ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ও একটি কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার ছিল, সেগুলো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
তবে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে এবং ধ্বংসাবশেষ পড়লেও কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে কুয়েত ও বাহরাইনও। দুই দেশই জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল এবং বেশিরভাগ আকাশীয় হুমকি প্রতিহত করা হয়েছে।
এদিকে বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার দাবিও করেছে আইআরজিসি। কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিস্ফোরণের দৃশ্য প্রকাশিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত তাদের নৌবহরে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, গত এপ্রিলে হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা। নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ফলে এই অঞ্চলে সংঘর্ষ বাড়লে বৈশ্বিক তেলের বাজার, জাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে, উত্তেজনা বাড়লেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলছেন। তবে ইরানও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে-মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে তাদের জবাব আরও কঠোর হবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান উদ্বেগের বিষয়।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স