গত ৬ ঘণ্টার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক আপডেট

গত ৬ ঘণ্টার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক আপডেট
ছবির ক্যাপশান, প্রতীকী ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। মার্কিন বাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সামরিক অবস্থান।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে সিরিক নৌঘাঁটি (Sirik Naval Base), জাস্ক নৌঘাঁটি (Jask Naval Base), বান্দার আব্বাসের বিমান প্রতিরক্ষা অবস্থান (Bandar Abbas Air Defense Position) এবং কেশম দ্বীপের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র অবস্থান (Qeshm Coastal Missile Position)। এসব স্থাপনাকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে এক মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে (Politico) বলেন, পরিস্থিতির মৌলিক কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। তার ভাষায়, “যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক পথেই অঙ্গীকারবদ্ধ।” তবে একই সময়ে ইরানের সামরিক স্থাপনায় নতুন হামলা পরিচালিত হওয়ায় অঞ্চলজুড়ে পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এটি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার সামরিক হামলা। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ জোরদার করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে।

 

এদিকে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দাবি করেছে, তারা মার্কিন বাহিনীর দুটি এমকিউ-৯ রিপার (MQ-9 Reaper) ড্রোন এবং একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো হামলা প্রতিহত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে এবং কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করেছে।

 

অন্যদিকে মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং জর্ডানের মুয়াফফাক আল-সালতি বিমানঘাঁটি (Muwaffaq Al-Salti Air Base)।

 

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (Islamic Revolutionary Guard Corps-IRGC) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, জর্ডানের মুয়াফফাক আল-সালতি বিমানঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। আইআরজিসির ভাষ্যমতে, আঘাতপ্রাপ্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গারও রয়েছে।

 

তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা জর্ডানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কেও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার দাবি, অন্যদিকে ধারাবাহিক সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

 

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।


সম্পর্কিত নিউজ