স্বর্ণের আজকের বাজারদর, ভরি কত?

স্বর্ণের আজকের বাজারদর, ভরি কত?
ছবির ক্যাপশান, ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও দামের ওঠানামা দেখা দিয়েছে। কয়েক দিন আগে প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন-বাজুস।

তবে এরপর স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় একই পরিমাণ অর্থাৎ ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ ঘোষিত এই দর কার্যকর হয়েছে ২৩ মে সকাল ১০টা থেকে।

 

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমেছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাই নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২১ মে ঘোষিত দরে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। সে সময় ২১ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।

 

সর্বশেষ স্বর্ণের দাম

বাজুসের সর্বশেষ কমানো দরের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে-

২২ ক্যারেট: ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা
২১ ক্যারেট: ২ লাখ ২৫ হাজার ২৩২ টাকা
১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা
সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা

প্রতি ভরি স্বর্ণের ওজন ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম হিসেবে এই দাম নির্ধারণ করা হয়। ২৫ মে প্রকাশিত হালনাগাদ খবরে দেখা যাচ্ছে, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা হিসেবেই বিক্রি হচ্ছে।

 

রুপার দাম অপরিবর্তিত

স্বর্ণের দাম কমানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

 

ঈদের আগে ক্রেতাদের ওপর প্রভাব

ঈদুল আজহাকে ঘিরে দেশে সাধারণত স্বর্ণালংকারের চাহিদা কিছুটা বাড়ে। বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান, উপহার এবং ঈদকেন্দ্রিক কেনাকাটার কারণে এই সময়ে জুয়েলারি দোকানগুলোতে ক্রেতার আনাগোনা বাড়তে দেখা যায়। তবে স্বর্ণের দাম এখনো ঐতিহাসিকভাবে অনেক উচ্চ অবস্থানে থাকায় অনেক ক্রেতাই ভারী গহনার পরিবর্তে হালকা ডিজাইন, ২১ বা ১৮ ক্যারেটের গহনা কিংবা পুরোনো স্বর্ণ বদলে নতুন গহনা তৈরির দিকে ঝুঁকছেন।

 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে দামের অস্থিরতা থাকলে ক্রেতারা সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় পড়েন। কেউ দাম আরও কমার অপেক্ষা করেন, আবার কেউ ঈদের আগে প্রয়োজনীয় গহনা কিনে ফেলতে চান। ফলে ঈদের আগে বাজারে চাহিদা থাকলেও উচ্চ দামের কারণে বিক্রিতে মিশ্র প্রভাব পড়তে পারে।

 

গহনা কিনতে বাড়তি খরচ যোগ হবে

ক্রেতাদের মনে রাখতে হবে, বাজুস ঘোষিত স্বর্ণের দরই গহনার চূড়ান্ত ক্রয়মূল্য নয়। গহনা কেনার সময় ঘোষিত স্বর্ণমূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি বা মেকিং চার্জ যোগ হয়। গহনার ডিজাইন, কারিগরি ও মানভেদে মজুরি আরও বেশি হতে পারে।

 

তাই ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের ঘোষিত দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা হলেও গহনা হিসেবে কিনতে গেলে ভ্যাট ও মজুরি যোগ হয়ে প্রকৃত খরচ আরও বেশি হবে। এ কারণে ক্রেতাদের টিকিট/রসিদ, ক্যারেট, ওজন, ভ্যাট ও মজুরির হিসাব ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

 

ঘন ঘন দামের পরিবর্তন

চলতি বছর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ঘন ঘন সমন্বয় করা হচ্ছে। স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের দর, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা-সব মিলিয়ে বাজুস নিয়মিত দাম পুনর্নির্ধারণ করছে। ২১ মে দাম বাড়ানোর পর ২৩ মে আবার দাম কমানোয় বাজারে এই অস্থিরতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

 

স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি দামের ওঠানামা, মার্কিন সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা-এসব কারণ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে প্রভাব ফেলছে। তার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়ছে। সব মিলিয়ে ঈদের আগে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমলেও বাজার এখনও উচ্চমূল্যের মধ্যে রয়েছে। ফলে ক্রেতাদের জন্য সামান্য স্বস্তি এলেও স্বর্ণ কেনা এখনো বড় ব্যয়ের সিদ্ধান্ত হিসেবেই থাকছে।

 


সম্পর্কিত নিউজ