নজরুল বর্ষ উপলক্ষে ৬৪ জেলায় তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান, জানালেন সংস্কৃতিমন্ত্রী

নজরুল বর্ষ উপলক্ষে ৬৪ জেলায় তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান, জানালেন সংস্কৃতিমন্ত্রী
ছবির ক্যাপশান, নজরুল বর্ষ উপলক্ষে ৬৪ জেলায় তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান, জানালেন সংস্কৃতিমন্ত্রী

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত নজরুল বর্ষ উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে দেশের ৬৪ জেলা ও ৭৪টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী ১৮ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালিত হবে।

রোববার (১৪ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে নজরুল বর্ষ উদ্‌যাপনের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি তুলে ধরা হয়।

 

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চলতি বছরের ২৫ মে থেকে আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। এই এক বছরব্যাপী উদ্‌যাপনের লক্ষ্য হলো কবির সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবতাবাদী চেতনা দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়া।

 

তিনি জানান, নজরুল বর্ষের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি জেলায় এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, সংগীতানুষ্ঠান, আবৃত্তি এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক আয়োজন করা হবে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্ম ও আদর্শ তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা, গান, গল্প এবং সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাই তার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অবদানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

 

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পী, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করা হবে। ফলে উদ্‌যাপন কর্মসূচিগুলো আরও ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তিন দিনব্যাপী আয়োজনে নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, নাট্য প্রদর্শনী, আলোচনা সভা এবং শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে জাতীয় কবির জীবন ও কর্ম নিয়ে বিভিন্ন প্রদর্শনীও আয়োজন করা হতে পারে।

 

সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও দর্শনের মধ্যে যে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সাম্যের চেতনা রয়েছে, তা বর্তমান প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সময়ের দাবি। এ কারণেই নজরুল বর্ষকে শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা দেশে বিস্তৃতভাবে উদ্‌যাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

প্রসঙ্গত, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৩ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নজরুল বর্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

 


সম্পর্কিত নিউজ