আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ৬৫৯০ টাকা বৃদ্ধি

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ৬৫৯০ টাকা বৃদ্ধি
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে টানা চার দফা দাম কমার পর আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাজুস। নতুন মূল্যহার একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

 

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা।

 

এর আগে গত ১১ জুন স্বর্ণের দাম ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়েছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা। এর আগেও টানা কয়েক দফা মূল্যহ্রাসের ফলে বাজারে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছিল।

 

সবশেষ এই বৃদ্ধির ফলে দুই দিন আগের তুলনায় প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম আবার ২ লাখ ২৫ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তবে কয়েক দফা ধারাবাহিক মূল্যহ্রাসের কারণে সামগ্রিকভাবে স্বর্ণের দাম এখনও সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থানের নিচেই রয়েছে।

 

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৭৪ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৩৮ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩৬ বার কমানো হয়েছে। ঘন ঘন এই মূল্য সমন্বয় আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের দামের পরিবর্তনের প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

অন্যদিকে, ২০২৫ সালে দেশের স্বর্ণবাজারে মোট ৯৩ বার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল। ওই বছরে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল, বিপরীতে কমেছিল ২৯ বার।

 

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারেও দাম বাড়ার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ফলে আগামী সপ্তাহগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করেই দেশের স্বর্ণবাজারের পরবর্তী দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে।


সম্পর্কিত নিউজ