{{ news.section.title }}
দুপুরের মধ্যে ১০ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আজ বুধবার দুপুরের মধ্যে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভোর সাড়ে ৫টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে ময়মনসিংহ, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং বঙ্গোপসাগরে বিদ্যমান আর্দ্রতার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং পার্বত্য অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। কোথাও কোথাও স্বল্প সময়ের মধ্যে ভারী বর্ষণও হতে পারে, যা স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে গতকাল প্রকাশিত ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসেও দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, দিনের বিভিন্ন সময়ে বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হলে আকস্মিকভাবে ঝড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই খোলা মাঠ, জলাশয় ও উঁচু স্থানে অবস্থানকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতার মধ্যেও সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি অনেক এলাকায় বজায় থাকতে পারে, যদিও বৃষ্টিপাত সাময়িক স্বস্তি এনে দেবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমের এই সময়ে বজ্রপাতের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই ঝড়-বৃষ্টির সময় অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না থাকা, নদী বা খোলা জলাশয়ে অবস্থান না করা এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কৃষকদেরও মাঠের ফসল ও কৃষি সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নদীবন্দর, উপকূলীয় এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বশেষ আবহাওয়া বুলেটিনের দিকে নজর রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।