যে কারণে এখনই সরছে না ঢাকার ৩ বাস টার্মিনাল

যে কারণে এখনই সরছে না ঢাকার ৩ বাস টার্মিনাল
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর চারটি প্রধান বাস টার্মিনাল আপাতত ঢাকার বাইরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না। তবে যানজট কমাতে এসব টার্মিনালে দীর্ঘ সময় ধরে বাস অবস্থান করার প্রচলিত ব্যবস্থা পরিবর্তন করে ডিপো-ভিত্তিক পরিচালনা পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, টার্মিনালগুলো ভবিষ্যতে স্থানান্তর করা হবে, তবে তা রাতারাতি নয়; প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পর ধাপে ধাপে এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

এর আগে সোমবার রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ঢাকার চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল-ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান, গাবতলী, মহাখালী এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী টার্মিনাল দ্রুত স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়।

 

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে একটি বাস অনেক ক্ষেত্রে ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত টার্মিনালে অবস্থান করে থাকে। এতে যাত্রীসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি টার্মিনাল এলাকায় তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সরকার চায় বাসগুলো নির্ধারিত ডিপোতে অবস্থান করবে এবং ট্রিপ শুরুর অল্প সময় আগে কেবল যাত্রী নেওয়ার জন্য টার্মিনালে প্রবেশ করবে।

 

তিনি বলেন, “টার্মিনাল হবে যাত্রী ওঠানামার জায়গা, বাসের দীর্ঘ সময় পার্কিংয়ের স্থান নয়। আমরা টার্মিনাল ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে চাই।”

 

মন্ত্রী জানান, মহাখালী বাস টার্মিনাল আপাতত আগের স্থানেই থাকছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি উত্তরার একটি নতুন স্থানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য প্রায় ৫০ বিঘা জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে ৩০০ ফুট এলাকায় একটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে বাসগুলো অস্থায়ী ডিপো হিসেবে অবস্থান করবে।

 

তিনি বলেন, বর্তমানে মহাখালী টার্মিনালে বাসের অতিরিক্ত চাপের কারণে যানজট ও যাত্রীসেবা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় যেসব বাস দ্রুত যাত্রা করবে, শুধু সেগুলো টার্মিনালে থাকবে। বাকি বাসগুলো নির্ধারিত ডিপোতে অপেক্ষা করবে।

 

একই ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের ক্ষেত্রেও। শেখ রবিউল আলম বলেন, কাঁচপুর এলাকায় অস্থায়ীভাবে একটি বাস টার্মিনাল ও ডিপো গড়ে তোলার কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার পর ধীরে ধীরে সেখানেই কার্যক্রম স্থানান্তর করা হবে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে বাস টার্মিনাল ও ডিপোর কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহনের গতি কমে যায়। বিশেষ করে মহাখালী, গাবতলী এবং সায়েদাবাদ এলাকায় দীর্ঘ যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে রাস্তার পাশে বাসের সারিবদ্ধ অবস্থান এবং অনিয়ন্ত্রিত টার্মিনাল কার্যক্রম। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এসব এলাকায় যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।

 

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফর নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, চীন বাংলাদেশের রেল, সড়ক ও নৌপরিবহন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী। বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

 

মন্ত্রী বলেন, “চীনের যেসব প্রস্তাব বাংলাদেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, সেসব প্রকল্পই বিবেচনা করা হবে। উভয় দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

 

তিনি আরও জানান, বর্তমানে চীনের আগ্রহ রয়েছে এমন একাধিক অবকাঠামো প্রকল্প সরকারের পর্যালোচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগ, অর্থায়ন কাঠামো, প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

এদিকে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী ‘মৈত্রী’ ও ‘বন্ধন’ ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখনও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং অর্থনৈতিক ও যাত্রীসেবার দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাজধানীর ক্রমবর্ধমান যানজট মোকাবিলায় শুধু নতুন সড়ক নির্মাণ নয়, বরং গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, টার্মিনাল সংস্কার, ডিপো স্থানান্তর এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সম্পর্কিত নিউজ