দাম বেড়ে দেশে কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ?

দাম বেড়ে দেশে কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ?
ছবির ক্যাপশান, প্রতীকী ছবি

আন্তর্জাতিক বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ-রুপার দাম বৃদ্ধির প্রভাবে দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। সর্বশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে ভরিতে স্বর্ণের দাম ৫ হাজার টাকার বেশি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস), ফলে নতুন করে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম।

বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৬ জুন) থেকে নতুন দর কার্যকর হয়েছে। এর আগে ১৫ জুন এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণ ও রুপার দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। ওই ঘোষণার আওতায় প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং প্রতি ভরি রুপার দাম ২৩৩ টাকা বাড়ানো হয়।

 

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড) ও তেজাবি রুপার (পিওর সিলভার) মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ মূল্য।

 

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকা। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকায়।

 

এর আগে গত ১৩ জুন স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। সে সময় প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি করে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা।

 

অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই দফা মূল্যবৃদ্ধির ফলে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১১ হাজার টাকারও বেশি বেড়েছে। এতে স্বর্ণের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিভিন্ন অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়ছে। পাশাপাশি ডলার বিনিময় হার ও আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তনও স্বর্ণের দামে প্রভাব ফেলছে।

 

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বেড়েছে। নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার ফলে গহনা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের বাড়তি খরচ গুনতে হবে। বিশেষ করে বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মৌসুমে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

 

চলতি বছরে স্বর্ণের দামে ঘন ঘন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কখনো আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে, আবার কখনো স্থানীয় কাঁচামালের দামের ওঠানামার কারণে বারবার মূল্য সমন্বয় করতে হচ্ছে বাজুসকে। ফলে আগামী দিনগুলোতেও স্বর্ণ ও রুপার বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ