{{ news.section.title }}
আদ্-দ্বীনের অন্য শাখাগুলোর কী হবে, জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডে একসঙ্গে কয়েকটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়নের মধ্যে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। তবে একই ব্র্যান্ডের অধীনে পরিচালিত আদ্-দ্বীনের অন্যান্য হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম আপাতত স্বাভাবিকভাবেই চলবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম রোগের চিকিৎসাসংক্রান্ত নতুন ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা শুধুমাত্র ওই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য। একই প্রতিষ্ঠানের অন্য শাখাগুলো যদি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম-কানুন এবং সেবার মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করে, তাহলে তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো বাধা নেই।
সম্প্রতি আদ্-দ্বীন হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক ইউনিটে একাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি, পর্যাপ্ত তদারকির অভাব এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয় উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “বদ্ধ ঘরে অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের শিশুরা। এ ঘটনায় চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ছিল। আদ্-দ্বীনে ছয় শিশুর মৃত্যুর দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, শিশু মৃত্যুর মতো ঘটনা শুধু একটি হাসপাতালের ব্যর্থতা নয়, বরং পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য একটি সতর্কবার্তা। রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রতিটি হাসপাতালের প্রথম দায়িত্ব। সেখানে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়।
মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে দায়িত্বহীনতার কারণে যদি কোনো রোগীর জীবনহানি ঘটে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। “কেউ অপরাধ করলে সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই”- এমন মন্তব্য করে তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।
তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও যদি ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বা মানবিক ভুলের কারণে রোগীর মৃত্যু ঘটে, তাহলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক মান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত সেবার মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে রোগীসেবা, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, অক্সিজেন সরবরাহ ও নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট পরিচালনায় আরও দক্ষতা প্রয়োজন।
তিনি চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় যুক্ত কর্মীদের আরও সতর্ক, মানবিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে শিশু মৃত্যুর ঘটনার পর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থাকে স্বাগত জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হলে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
একই অনুষ্ঠানে হাম রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের চলমান উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, টিকাদান কর্মসূচি, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আরও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায় প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।