{{ news.section.title }}
এক বছরের বেশি সময় পর আবারও চালু হচ্ছে ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট
দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে একমাত্র সরাসরি বিমান যোগাযোগ। আগামী ২৭ জুলাই থেকে ঢাকা-নারিতা-ঢাকা রুটে পুনরায় সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীতে প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্টে (পিআইডি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাপানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (জেসিএবি) প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার কারণে ফ্লাইট পুনরায় চালুর সময়সূচিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। শুরুতে ৩০ জুনের মধ্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা থাকলেও জাপানি কর্তৃপক্ষের চাওয়া বিস্তৃত নিরাপত্তা নিরীক্ষা (সেফটি অডিট) সম্পন্ন করার পর ২৭ জুলাই নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১ জুলাই ঢাকা-নারিতা রুটের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। সে সময় পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি, উড়োজাহাজ সংকট এবং বাণিজ্যিক কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে পর্যটনমন্ত্রী জানান, রুটটি বন্ধ হওয়ার আগে যাত্রীসংখ্যা ও আয়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও জোরদার করা, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে নতুন সরকার বিমানকে এই রুট পুনরায় চালুর নির্দেশ দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে জাপানের সম্পৃক্ততা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির কারণে সরাসরি বিমান যোগাযোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
পুনরায় চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে সপ্তাহে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এ রুটে ব্যবহৃত হবে বিমানের অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ। যাত্রী চাহিদা, উড়োজাহাজের প্রাপ্যতা এবং বাণিজ্যিক সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ২০ জুনের পর থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও অনুমোদিত বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি শুরু হতে পারে।
বর্তমানে জাপানে ৪০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী, দক্ষ কর্মী, প্রকৌশলী এবং ব্যবসায়ী রয়েছেন। জাপানে বাংলাদেশি কমিউনিটির দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগের চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভ্রমণসংশ্লিষ্ট খাতের বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে যাত্রীদের সময় ও খরচ উভয়ই কমবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, পর্যটক, ব্যবসায়ী এবং প্রবাসীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো দেশে ট্রানজিট ছাড়াই সরাসরি জাপানে পৌঁছানো সম্ভব হওয়ায় এ রুটের জনপ্রিয়তা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রথমবারের মতো ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট চালু করে। প্রায় দুই বছর পর রুটটি বন্ধ হয়ে গেলেও পুনরায় চালুর এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কার্যকর রুট ব্যবস্থাপনা ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢাকা-নারিতা রুট ভবিষ্যতে বিমানের অন্যতম সম্ভাবনাময় আন্তর্জাতিক গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।