{{ news.section.title }}
আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে যোগ হলো ৫ হাজার ৪৮২ টাকা
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দামে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানায়। সংগঠনটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন মূল্যতালিকা একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এবং দেশীয় কাঁচামালের মূল্যের পরিবর্তনের কারণে এ সমন্বয় করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ কিনতে ভরিপ্রতি গুনতে হবে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকা। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকা।
এর আগে গত ১৩ জুনও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। সে সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবারও মূল্যবৃদ্ধির ফলে স্বর্ণের বাজারে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি দেশের খুচরা বাজারে পড়ছে। ফলে ক্রেতাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৭৫ বার স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩৬ বার কমানো হয়েছে। অর্থাৎ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত স্বর্ণবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সে বছর ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৯ বার মূল্য হ্রাস করা হয়, যা দেশের স্বর্ণবাজারের ইতিহাসে অন্যতম ব্যস্ত মূল্য সমন্বয়ের বছর হিসেবে বিবেচিত হয়।
স্বর্ণের দামের এই ধারাবাহিক ওঠানামার কারণে বিয়ের মৌসুম, অলঙ্কার ব্যবসা এবং বিনিয়োগ খাতেও প্রভাব পড়ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ থাকলেও ঘন ঘন মূল্য পরিবর্তনের কারণে অনেকেই সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছেন। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি ও স্থানীয় কাঁচামালের দামের ওপর নির্ভর করেই আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের বাজারের অবস্থান নির্ধারিত হবে।