{{ news.section.title }}
দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে ঢাকার পথে তথ্য উপদেষ্টা
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রবেশে বাধার মুখে পড়ে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। কূটনৈতিকভাবে আগাম অবহিত করার পরও দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা এবং প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে কলম্বো থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের আগেই তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এদিকে দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকার সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দিল্লিতে ঠিক কী পরিস্থিতিতে তাকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যায় দিল্লিতে পৌঁছানোর পর ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে জাহেদ উর রহমানকে বিমানবন্দরেই আটকে রাখে। যদিও সফর সম্পর্কে আগেই কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে ভারত সরকারকে অবহিত করা হয়েছিল। পরে উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে প্রবেশের অনুমতির বিষয়টি সামনে এলেও তিনি আর দিল্লিতে প্রবেশ না করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনার পরপরই তিনি এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর উদ্দেশে যাত্রা করেন। সোমবার ভোরে কলম্বো পৌঁছে কিছু সময় অবস্থান করার পর সকাল আটটার দিকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
সূত্র জানায়, সোমবার থেকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা রোববার সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ওই বৈঠকে তাঁর বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল।
জানা গেছে, ওই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে উপদেষ্টার অংশগ্রহণের বিষয়ে গত শুক্রবার দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যায় দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাঁকে রহস্যজনক কারণে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখে। তাঁকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়টি স্পষ্ট করেনি। এমন পরিস্থিতিতে জাহেদ উর রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরও এমন ঘটনা অস্বাভাবিক। বিশেষ করে একটি বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক বৈঠকে অংশ নিতে যাওয়া সরকারি পর্যায়ের একজন প্রতিনিধিকে বিমানবন্দরে আটকে রাখার বিষয়টি স্বাভাবিক কূটনৈতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন তারা।
উল্লেখ্য, ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ) ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, নীল অর্থনীতি ও আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারের লক্ষ্যে কাজ করে থাকে। দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক মহলে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার প্রবেশে বাধার প্রকৃত কারণ এবং এ বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।