মেডিকেল ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়ম জানাল ভারত

মেডিকেল ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়ম জানাল ভারত
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসা আবেদনকারীদের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও কাঠামোবদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হয়েছে। একই সঙ্গে জালিয়াতি, ভুয়া আবেদন এবং স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্লট দখলের প্রবণতা কমাতেও নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সোমবার (১৫ জুন) আইভ্যাকের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বার্তায় জানানো হয়, পরবর্তী কার্যদিবসের অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট আগের কার্যদিবসেই প্রকাশ করা হবে। ফলে আবেদনকারীরা আগে থেকেই জানতে পারবেন কখন স্লট উন্মুক্ত হবে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

 

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে আবেদনকারীদের সাইন-আপ সম্পন্ন করে ওয়েবফাইল আপলোড করতে হবে। তবে কেবলমাত্র যেসব আবেদনকারী সফলভাবে ওয়েবফাইল আপলোড করবেন, তারাই বিকেল ৫টা থেকে শুরু হওয়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

 

আইভ্যাক জানিয়েছে, আপলোড করা ওয়েবফাইল অবশ্যই ভারতীয় ভিসা পোর্টাল থেকে তৈরি করা মূল ভিসা আবেদনপত্রের পিডিএফ কপি হতে হবে। আবেদনপত্র ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। একই সঙ্গে সম্পাদিত, পরিবর্তিত, বিকৃত বা তথ্য পরিবর্তন করা কোনো ফাইল সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ, দালালচক্রের তৎপরতা এবং অননুমোদিত বুকিং কার্যক্রমের কারণে আবেদনকারীরা ভোগান্তিতে পড়ছিলেন। নতুন নিয়মের ফলে প্রকৃত আবেদনকারীদের জন্য স্লট পাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে।

 

বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মেডিকেল ভিসা সংক্রান্ত নির্দেশনায়ও। আইভ্যাক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যে হাসপাতালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে মেডিকেল ভিসা ইস্যু করা হবে, আবেদনকারীকে শুধুমাত্র সেই হাসপাতালেই চিকিৎসা নিতে হবে। ভিসা পাওয়ার পর নিজ সিদ্ধান্তে হাসপাতাল পরিবর্তন করা যাবে না।

 

যদি কোনো কারণে হাসপাতাল পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, তাহলে ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-এর পূর্বানুমতি নিতে হবে। অনুমোদন ছাড়া হাসপাতাল পরিবর্তন করলে তা ভিসা শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

আইভ্যাকের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের লঙ্ঘনের ঘটনায় ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভারত ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। ফলে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতগামী বাংলাদেশিদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশিদের জন্য ভারত দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা ও পর্যটনের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। বিশেষ করে চিকিৎসা ভিসার ক্ষেত্রে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। এছাড়া ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের মধ্যেও ভারতীয় ভিসার চাহিদা অত্যন্ত বেশি।

 

কোভিড-পরবর্তী সময়ে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক হলেও অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংকট, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং অনলাইনে স্লট পাওয়ার জটিলতা নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। নতুন ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে আবেদন যাচাই, তথ্য সংরক্ষণ এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার চেষ্টা করছে আইভ্যাক।

 

ভিসা বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আবেদনকারীদের আগে থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। বিশেষ করে ওয়েবফাইল তৈরির সময় দেওয়া তথ্য, পাসপোর্টের তথ্য এবং আপলোড করা নথিপত্রে কোনো অসঙ্গতি থাকলে আবেদন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে।

 

তারা আরও বলছেন, আবেদনকারীদের দালাল বা তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি আইভ্যাকের নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদন করা উচিত। এতে প্রতারণার ঝুঁকি কমবে এবং ভিসা প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন হবে।

 

নতুন নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে আইভ্যাক। ফলে ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি নাগরিকদের সর্বশেষ নিয়ম মেনে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ