{{ news.section.title }}
ঢাকার বায়ুমান মাঝারি, দূষণে এগিয়ে সান্তিয়াগো
জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রুত নগরায়ণ, শিল্পকারখানার সম্প্রসারণ, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণকাজের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের অনেক বড় শহরে বায়ুর মান খারাপ হলেও বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বায়ুমান আজ তুলনামূলকভাবে মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার (IQAir)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর ছিল ৭১। এই স্কোর অনুযায়ী ঢাকার বায়ুর মান ‘মাঝারি’ বা Moderate শ্রেণিতে রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য বায়ু গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হলেও দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থানকারী সংবেদনশীল ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় এ সময় ঢাকার অবস্থান ছিল ২৪তম।
দূষণে শীর্ষে চিলির রাজধানী
আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, আজ বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো। শহরটির AQI স্কোর ১৭২, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ (Unhealthy) পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। বায়ুদূষণের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, যার স্কোর ১৬৩। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার স্কোর ১৫৮।
এ ছাড়া ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনসাসার স্কোর ১৫৬ এবং ভারতের রাজধানী দিল্লির স্কোর ১৪৭। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব শহরে যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন, ধুলাবালি এবং আবহাওয়াগত কারণে দূষণের মাত্রা বেশি দেখা যাচ্ছে।
ঢাকার বায়ুর মান কেন কিছুটা উন্নত?
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষাকাল ঘনিয়ে আসায় এবং সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে বাতাসে ভাসমান ধুলিকণা ও দূষিত কণার পরিমাণ কিছুটা কমেছে। ফলে বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় বর্তমানে ঢাকার বায়ুর মান অপেক্ষাকৃত সহনীয় অবস্থানে রয়েছে।
তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, ঢাকার বায়ুদূষণ এখনও একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। শুষ্ক মৌসুমে রাজধানী প্রায়ই বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে। নির্মাণকাজের ধুলো, ইটভাটা, শিল্পকারখানা এবং পুরোনো যানবাহনের ধোঁয়া দূষণের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত।
AQI স্কোর কী বোঝায়?
আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা AQI স্কোরের মাধ্যমে কোনো এলাকার বায়ুর মান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়।
০–৫০ : ভালো (Good)
৫১–১০০ : মাঝারি (Moderate)
১০১–১৫০ : সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর
১৫১–২০০ : অস্বাস্থ্যকর (Unhealthy)
২০১–৩০০ : খুব অস্বাস্থ্যকর (Very Unhealthy)
৩০১–৪০০ : ঝুঁকিপূর্ণ (Hazardous)
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, AQI স্কোর ১৫০ অতিক্রম করলে শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে বায়ুদূষণ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘদিন দূষিত বায়ুতে বসবাস করলে ফুসফুসের রোগ, হাঁপানি, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যানসার এবং শ্বাসতন্ত্রের নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, টেকসই নগর পরিকল্পনা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিল্পকারখানার নির্গমন নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মাণকাজে ধুলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বায়ুদূষণ কমানো সম্ভব। অন্যথায় ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে বায়ুদূষণের সংকটও আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।