২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ব্যায় হয়েছিল ২২০ বিলিয়ন ডলার

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ব্যায় হয়েছিল ২২০ বিলিয়ন ডলার
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে যখন কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও মানবিক সংকটে ভুগছে, তখন বিনোদন ও ক্রীড়া আয়োজনের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা আহমাদুল্লাহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক মন্তব্যে তিনি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ব্যয় এবং বিশ্ব ক্ষুধা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের তুলনা তুলে ধরে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ব্যয় হয়েছিল ২২০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি বলেছেন, মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলার হলেই প্রতি বছর পৃথিবীর ৮২ কোটি ৮০ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণ করা সম্ভব। একদিকে কোটি কোটি ক্ষুধার্ত মানুষ, অন্যদিকে অনর্থক এক খেলার পেছনে চলছে গোটা পৃথিবীর সম্মিলিত উন্মাদনা। এই উন্মাদনা প্রমাণ করে, মনুষ্যত্বের মর্যাদা আমরা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছি। পৃথিবী জুড়ে এখন কেবলই মনুষ্যত্ব-বিবর্জিত ‘খোলস-মানুষের’ বসবাস।”

 

তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ কেউ বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও বৈষম্যের বাস্তবতার সঙ্গে তার বক্তব্যের মিল খুঁজে সমর্থন জানিয়েছেন। আবার অনেকেই মনে করেন, বিশ্বকাপের মতো বড় ক্রীড়া আয়োজন শুধু একটি খেলা নয়; এটি অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, পর্যটন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত।

 

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে 2022 FIFA World Cup আয়োজন করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ Qatar। এটি ছিল আরব বিশ্ব ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কোনো দেশে অনুষ্ঠিত প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টকে ঘিরে দেশটি নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ, মেট্রোরেল, সড়ক অবকাঠামো, বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, আবাসন ও নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে বিপুল বিনিয়োগ করে।

 

কাতার কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, এসব ব্যয়ের বড় অংশ শুধুমাত্র বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য নয়; বরং দেশটির দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী, কাতার বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা ও খাদ্য সংকট এখনো অন্যতম বড় মানবিক চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার সংকটের কারণে কোটি কোটি মানুষ পর্যাপ্ত খাদ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।


সম্পর্কিত নিউজ