নিত্যপণ্যের ট্যাক্স কমানো ও মদের দাম বাড়ানো বাজেটও বিরোধী দলের ভালো লাগে না: প্রধানমন্ত্রী

নিত্যপণ্যের ট্যাক্স কমানো ও মদের দাম বাড়ানো বাজেটও বিরোধী দলের ভালো লাগে না: প্রধানমন্ত্রী
ছবির ক্যাপশান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো এবং মদের দাম বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ থাকা সত্ত্বেও বিরোধী দল বাজেটের সমালোচনা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলগুলোর উদ্দেশ্য জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত পাতলী-মাছুয়াখালী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় পাঁচ দশক আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খাল খনন করেছিলেন। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এখন খালটির পুনঃখনন কাজ শুরু হয়েছে। তার মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

 

তিনি জানান, খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন।

 

কৃষি খাতের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি বাজেটে কৃষকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষকের কাছে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।

 

বাজেট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, সাধারণত বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার অভিযোগ ওঠে। তবে এবারের বাজেটে সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার ৬০টি পণ্যের ওপর কর প্রত্যাহার করেছে, যার ফলে বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়নি।

 

তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিবেচিত কিছু পণ্যের ওপর সরকার কর বৃদ্ধি করেছে। এর মধ্যে মদের মূল্যও বেড়েছে। এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে বাজেটে কর কমানো হয়েছে এবং মদের দাম বাড়ানো হয়েছে, সেই বাজেটও বিরোধী দলের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

 

বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তারা বিভিন্ন সময় জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ইস্যুকে ব্যবহার করে। তার মতে, এসব কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করা।

 

দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অতীতেও বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার চেষ্টা হয়েছে। তবে জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে যাদের দায়িত্ব দিয়েছে, তারা দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাবে।
 


সম্পর্কিত নিউজ