বায়ুদূষণের শীর্ষে কিংসাসা, ঢাকার অবস্থান কত?

বায়ুদূষণের শীর্ষে কিংসাসা, ঢাকার অবস্থান কত?
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রুত নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রভাবে বায়ুদূষণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় কয়েক দিন ধরে দূষিত বাতাসের কবলে থাকা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় আজ কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলেছে। আগের দিনের তুলনায় বায়ুমানের উন্নতি হলেও শহরটির বাতাস এখনো পুরোপুরি স্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।

শুক্রবার (১১ জুন) সকালে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের (IQAir) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান দশম। এ সময় রাজধানীর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর ছিল ১০২, যা সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে বিবেচিত হয়।

 

তবে দিনের অন্য সময়ে ঢাকার বায়ুমানের স্কোর ৯২-এ নেমে আসে, যা ‘মাঝারি’ মানের বাতাস হিসেবে ধরা হয়। এর ফলে সাম্প্রতিক দিনের তুলনায় নগরবাসী কিছুটা স্বস্তি পেলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।

 

এদিন বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ছিল গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী Kinshasa। শহরটির AQI স্কোর ছিল ১৬৯, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ছিল Kampala, যার বায়ুমান স্কোর ১৫৩। তৃতীয় অবস্থানে থাকা Santiago-এর স্কোর ছিল ১২৪।

 

এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের Dubai এবং Jerusalem-ও দূষিত শহরের তালিকায় ছিল উল্লেখযোগ্য অবস্থানে। তাদের বায়ুমান স্কোর ছিল যথাক্রমে ১১৭ ও ১০৫।

 

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, AQI স্কোর ০ থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসের মান ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা ‘মাঝারি’ পর্যায়ে থাকে। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর হলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে গণ্য করা হয়। অন্যদিকে ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা ‘বিপজ্জনক’ পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় দূষিত বাতাসে অবস্থান করলে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসতন্ত্র ও হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। দূষিত বায়ুর কারণে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ফুসফুসের জটিলতা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

World Health Organization-এর তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। দূষিত বায়ুর সঙ্গে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের মতো গুরুতর রোগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

 

পরিবেশবিদরা বলছেন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং পরিবেশের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে। তাই যানবাহনের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণকাজে ধুলাবালি কমানো, শিল্পকারখানার নির্গমন পর্যবেক্ষণ এবং সবুজায়ন বৃদ্ধির মতো উদ্যোগকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।

 


সম্পর্কিত নিউজ