{{ news.section.title }}
দেশীয় মদের ভ্যাট বাড়ল, লিটারে ৫০০ টাকা
দেশে উৎপাদিত মদের ওপর প্রথমবারের মতো মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদিত দেশীয় মদের দাম বাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদিত প্রতি লিটার মদের ওপর ৫০০ টাকা হারে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপ করা হবে।
অর্থবিলে ভ্যাট আইনের তৃতীয় তফসিল সংশোধনের মাধ্যমে এই কর কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবটি সংসদে অনুমোদিত হলে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছরের শুরুতেই তা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এতদিন দেশে উৎপাদিত মদের ক্ষেত্রে কেবল আবগারি শুল্ক (এক্সাইজ ডিউটি) প্রযোজ্য ছিল। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি উৎপাদিত মদের ওপর নির্ধারিত হারে আবগারি শুল্ক পরিশোধ করলেও কোনো মূল্য সংযোজন কর দিতে হতো না। ফলে দেশীয় মদের ক্ষেত্রে ভ্যাট আরোপের এ সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ভ্যাট যুক্ত হওয়ার ফলে কেরুর উৎপাদিত মদের উৎপাদন ব্যয় ও বাজারমূল্যের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে দেশীয় মদের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সরকার এখনো নতুন কর আরোপের পর সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির নির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশ করেনি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং কর কাঠামোকে আরও সমন্বিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিলাস ও নিয়ন্ত্রিত পণ্যের ক্ষেত্রে করভিত্তি সম্প্রসারণের উদ্যোগের অংশ হিসেবেও এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত কেরু অ্যান্ড কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে দেশের একমাত্র অনুমোদিত দেশীয় মদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি মদ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের শিল্পজাত পণ্য উৎপাদন করে থাকে। তবে কেরুর উৎপাদিত মদের ওপর এতদিন ভ্যাট না থাকায় এটি কর ব্যবস্থার একটি ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত ছিল।
এবারের বাজেটে তামাক, নিকোটিনজাত পণ্য এবং অ্যালকোহল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে কর ও শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব এসেছে। সরকারের মতে, একদিকে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় ক্ষতিকর পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করাই এসব উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্যে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।