পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির বাজেট অনুমোদন

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির বাজেট অনুমোদন
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ১২ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২ হাজার ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং ইউজিসির জন্য ২৯৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৭৮তম পূর্ণ কমিশন সভায় এ বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় কার্যপত্র উপস্থাপন করেন ইউজিসি সচিব ড. ফখরুল ইসলাম। বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ইউজিসির অর্থ ও হিসাব বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম।

 

অনুমোদিত বাজেট অনুযায়ী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মোট বরাদ্দের মধ্যে ৭ হাজার ৪২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয়ের জন্য এবং ৪৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে ৪ হাজার ৫৭৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে রাখা হয়েছে।

 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৮০২ কোটি ২১ লাখ টাকা। সে তুলনায় আগামী অর্থবছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, যা উচ্চশিক্ষা খাতে সরকারের বাড়তি মনোযোগের ইঙ্গিত বহন করে।

 

আগামী অর্থবছরে সর্বোচ্চ রাজস্ব বাজেট পেয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

 

উচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে মোট বরাদ্দ ছিল ২২৯ কোটি টাকা। ফলে গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৯ কোটি টাকা।

 

ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে কমিশনের নিজস্ব বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশই গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং গবেষণার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

এর আগে ২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় সভায় গবেষণা খাতে বিদ্যমান দ্বৈততা দূর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতের ২০০ কোটি টাকা ইউজিসির কেন্দ্রীয় গবেষণা বাজেটে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইউজিসির গবেষণা খাতে বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ২২৬ কোটি টাকা। এর সঙ্গে বৈদেশিক স্কলারশিপের জন্য ১২ কোটি টাকা যোগ হয়ে মোট বরাদ্দ হয়েছে ২৩৮ কোটি টাকা।

 

ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে পরামর্শক্রমে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে, যার মাধ্যমে গবেষণা তহবিল আরও কার্যকর ও স্বচ্ছভাবে বণ্টন করা সম্ভব হবে। তার মতে, গবেষণার অর্থ কেন্দ্রীয়ভাবে বরাদ্দ করা হলেও কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। বরং গবেষণার মান, প্রয়োজনীয়তা, উদ্ভাবনী সম্ভাবনা এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদানের ভিত্তিতে অর্থ আরও কার্যকরভাবে বণ্টনের সুযোগ তৈরি হবে।

 

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রকৃত চাহিদার তুলনায় বর্তমান বরাদ্দ এখনো সীমিত। তবে বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় করা হলে গবেষণা ও উদ্ভাবনের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।

 

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে মানসম্মত গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে আরও উৎসাহিত করতে ইউজিসি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভবিষ্যতে গবেষণা খাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হবে।


সম্পর্কিত নিউজ