দেশের বাজারে কত দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ?

দেশের বাজারে কত দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ?
ছবির ক্যাপশান, প্রতীকী ছবি

দেশের বাজারে টানা মূল্য সমন্বয়ের ধারাবাহিকতায় আবারও কমেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণ ও রুপার মূল্য হ্রাস পাওয়ায় নতুন করে দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন মূল্য অনুযায়ী শনিবার (১৩ জুন) থেকে সারা দেশে স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি হচ্ছে।

গত ১১ জুন সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বর্ণ ও রুপার নতুন মূল্য ঘোষণা করে। ঘোষণায় জানানো হয়, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং প্রতি ভরি রুপার দাম ৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। একই দিন সকাল ১০টা থেকে নতুন মূল্য কার্যকর করা হয়।

 

বাজুসের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড) এবং পিওর সিলভারের দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতিও মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকায়। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকা।

 

এর আগে ১০ জুনও স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। সে সময় প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ৫৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২২ হাজার ৭৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সময়ে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪২৪ টাকা।

 

অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই দফা মূল্য সমন্বয়ের ফলে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আগামী দিনগুলোতে আবারও মূল্য পরিবর্তন হতে পারে।

 

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৭৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ বার দাম বেড়েছে এবং ৩৬ বার কমেছে। অর্থাৎ পুরো বছরজুড়েই স্বর্ণের বাজারে অস্বাভাবিক অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে।

 

গত বছরও স্বর্ণের বাজারে ব্যাপক ওঠানামা ছিল। ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৯ বার দাম হ্রাস করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এই অস্থিরতার অন্যতম কারণ।

 

স্বর্ণের পাশাপাশি কমেছে রুপার দামও। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮৪১ টাকায়। ২১ ক্যারেট রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৯৭৪ টাকা রাখা হয়েছে।

 

রুপার বাজারেও চলতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মূল্য সমন্বয় হয়েছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ৪৪ বার পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২ বার দাম বেড়েছে এবং ২২ বার কমেছে। অর্থাৎ দাম বাড়া ও কমার হার সমান রয়েছে।

 

অন্যদিকে ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল। সে সময় ১০ বার দাম বৃদ্ধি পেলেও মাত্র ৩ বার দাম কমানো হয়েছিল। ফলে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে রুপার বাজারে তুলনামূলক বেশি অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।

 

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বর্ণ ও রুপা শুধু অলংকার শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নয়, বরং বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতি, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি এবং ভূরাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রভাব সরাসরি এসব মূল্যবান ধাতুর বাজারে পড়ে।

 

তারা আরও বলছেন, সাম্প্রতিক মূল্য হ্রাসে স্বর্ণ ও রুপার ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা আগ্রহ বাড়তে পারে। বিশেষ করে বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মৌসুম সামনে থাকায় অলংকার ব্যবসায় নতুন গতি ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল্য স্থিতিশীল থাকবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারের পরবর্তী গতিপ্রকৃতির ওপর।


সম্পর্কিত নিউজ