{{ news.section.title }}
ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৩৯
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৩৯ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়েছে।
সোমবার (২২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৬ জন বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪ জন, ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ১২ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ৯ জন, সিলেট বিভাগে ৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন এবং রংপুর বিভাগে ১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলাতেও ডেঙ্গুর বিস্তার অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১২৪ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৬৯২ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
চলতি বছরের ২২ জুন পর্যন্ত সারাদেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৯ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ নারী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুরুষদের মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় একজনের মৃত্যুর ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। যদিও গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা এখনও অনেক কম, তবে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল। ওই বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। একই সময়ে ডেঙ্গুজনিত কারণে ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষাকালে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন এবং আশপাশের পরিবেশে পানি জমতে না দেওয়া, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার বিকল্প নেই।