সৌরবিদ্যুতে বছরে ৫ কোটির বেশি সাশ্রয় সম্ভব

সৌরবিদ্যুতে বছরে ৫ কোটির বেশি সাশ্রয় সম্ভব
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত প্রতিটি নতুন মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বছরে ৫ কোটিরও বেশি টাকা সাশ্রয় করছে বলে দাবি করেছে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)। সংগঠনটির মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ব্যয়বহুল জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাসের মাধ্যমে এই আর্থিক সাশ্রয় সম্ভব হচ্ছে।

রোববার (২৮ জুন) প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে ক্লিন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ফলে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতেই নয়, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং পরিবেশ সুরক্ষাতেও উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

 

গবেষণা অনুযায়ী, গত আট বছরে দেশের বিভিন্ন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মোট ৩ হাজার ২৩০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ে ২ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা এবং জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানিতে ৫ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। সব মিলিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে প্রায় ৭ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত প্রতিটি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বছরে গড়ে প্রায় ২ কোটি টাকা বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমায়। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানিতে সাশ্রয় হয় প্রায় ৩ দশমিক ১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি নতুন মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ থেকে বছরে ৫ কোটিরও বেশি টাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব।

 

এছাড়া প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বছরে প্রায় ৯৮০ টন কার্বন নিঃসরণ এবং ২৫ টনের বেশি ক্ষতিকর বায়ুদূষণ প্রতিরোধ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে চালু থাকা সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো গত আট বছরে ২২ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ এবং ৪৮ হাজার ৪০৩ টন ক্ষতিকর বায়ুদূষণ এড়াতে সক্ষম হয়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ধরনের দূষণের মধ্যে সালফার অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, সূক্ষ্ম বস্তুকণা, সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে। এসব দূষক মানুষের শ্বাসকষ্ট, হৃদ্‌রোগ, ফুসফুসের জটিলতা, ক্যানসার এবং অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

 

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তিগুলোর একটি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ছিল ইউনিটপ্রতি ১৫ দশমিক ৫৪ টাকা, যেখানে এইচএফওভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ছিল ইউনিটপ্রতি ২৭ দশমিক ৩৬ টাকা। ফলে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুতের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ করলে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়েও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

 

ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, প্রতিটি নতুন মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমায়, জ্বালানি আমদানি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ হ্রাস করে এবং জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখে। সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যতের বিনিয়োগ।

 

প্রতিবেদনে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে নিশ্চিত করার বাধ্যতামূলক লক্ষ্য নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন কয়লা ও এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন বন্ধ, অনাবাদি সরকারি জমিতে বিশেষ ‘সোলার জোন’ গড়ে অন্তত ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা, জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়ন, সৌর সরঞ্জামের ওপর আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে ক্লিন।


সম্পর্কিত নিউজ