{{ news.section.title }}
ভারি বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে, ৫ জেলায় নতুন বন্যার শঙ্কা
টানা ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এর প্রভাবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সোমবার (২০ জুলাই) প্রকাশিত সর্বশেষ বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী তিন দিনে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা নদীর পানি বেড়েছে এবং কুশিয়ারা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগামী তিন দিনে এ দুই নদীর পানিও বাড়তে পারে। ফলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি স্থানে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর প্রভাবে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। যেসব এলাকায় ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতি রয়েছে, সেখানে পানি আরও বাড়ার পরিবর্তে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।
এদিকে আগামী কয়েকদিন দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। উজানের এই বৃষ্টির পানি সীমান্তবর্তী নদীগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এছাড়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীগুলোর পানিও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেলে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে এবং কৃষক, জেলে ও নৌযান চালকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।