{{ news.section.title }}
বন্ধ হয়ে গেল দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার
অপরিশোধিত তেলের ঘাটতির কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্রুড অয়েল সরবরাহে দীর্ঘদিনের সংকটের ফলে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
তবে জ্বালানি বিভাগ আশ্বস্ত করেছে, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সাধারণ সরবরাহ ব্যবস্থায় আপাতত কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।
ইআরএলের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলেই সর্বশেষ পরিশোধন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। সংকট মোকাবিলায় কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন অপরিশোধিত তেল এবং ট্যাংকের তলানিতে থাকা ‘ডেড স্টক’ ব্যবহার করেও কিছুদিন কার্যক্রম চালানো হয়েছিল।
সাধারণ সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করে ইআরএল। তবে সংকট তীব্র হওয়ায় গত মাস থেকেই উৎপাদন কমিয়ে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়। এমনকি ৪ মার্চ নাগাদ ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুত ২ হাজার টনের নিচে নেমে আসে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)–এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল। প্রায় ১৫ লাখ টন ক্রুড তেল আসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে, যা ইআরএলে পরিশোধনের মাধ্যমে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রায় দুই মাস ধরে অপরিশোধিত তেল আমদানি কার্যত বন্ধ রয়েছে।