ভিসা নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা, কী বলছে মার্কিন দূতাবাস?

ভিসা নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা, কী বলছে মার্কিন দূতাবাস?
ছবির ক্যাপশান, জাগরণ ছবি

ঢাকার মার্কিন দূতাবাস বি১-বি২ বা ভিজিটর ভিসা ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে। শনিবার (২ মে) সকালে দেওয়া এক বার্তায় দূতাবাস জানিয়েছে, ভিজিটর ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেলে সীমিত কিছু ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া যায়, তবে সেখানে থেকে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা বা কোনো মার্কিন নিয়োগকর্তার জন্য কাজ করা অনুমোদিত নয়।

দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়, বি১-বি২ ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থায় চুক্তি নিয়ে আলোচনা, দরকষাকষি, ব্যবসায়িক বৈঠক বা সম্মেলনে অংশ নেওয়ার মতো কার্যক্রম করা যেতে পারে। কিন্তু এই ভিসা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি, পেশাগত কাজ, বেতনভুক্ত কাজ বা মার্কিন প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করার অনুমতি দেয় না।

 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ভিজিটর ভিসা নির্দেশনাতেও বলা হয়েছে, বি১-বি২ ভিসাধারী ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে বা চাকরি গ্রহণ করতে পারেন না। বি-১ ব্যবসায়িক ভিসায় বৈঠকে অংশ নেওয়া, চুক্তি আলোচনা, ব্যবসায়িক পরামর্শ, সম্মেলন বা সেমিনারে অংশগ্রহণের মতো অস্থায়ী ব্যবসায়িক কাজ করা যায়; তবে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে skilled বা unskilled labor বা বেতনভিত্তিক কাজ করা যায় না।

 

মার্কিন দূতাবাস আরও বলেছে, ভিসা সঠিকভাবে ব্যবহার করা ভিসাধারীর নিজের দায়িত্ব। অর্থাৎ, ভিসা হাতে পেলেই যুক্তরাষ্ট্রে যেকোনো কাজ করা যাবে-এমন ধারণা ভুল। ভ্রমণের উদ্দেশ্য, যুক্তরাষ্ট্রে থাকার কার্যক্রম এবং ব্যবহৃত ভিসা ক্যাটাগরি একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

 

কোন কাজ করা যাবে

বি১-বি২ ভিসার আওতায় সাধারণত পর্যটন, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা, চিকিৎসা নেওয়া, ব্যবসায়িক বৈঠক করা, চুক্তি নিয়ে আলোচনা, সম্মেলন বা পেশাগত সেমিনারে অংশ নেওয়ার মতো কাজ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, বি-১ ভিসায় ব্যবসায়িক সফরকারীরা চুক্তি আলোচনা, ব্যবসায়িক সহযোগীদের সঙ্গে পরামর্শ, পেশাগত বা ব্যবসায়িক সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং স্বাধীন গবেষণার মতো সীমিত কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন।

 

তবে এসব কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো-যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কাজের বিনিময়ে বেতন বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা যাবে না। সফরের মূল উদ্দেশ্য যদি চাকরি বা শ্রমভিত্তিক কাজ হয়, তাহলে ভিজিটর ভিসা সঠিক ক্যাটাগরি নয়; সে ক্ষেত্রে আলাদা কর্মভিত্তিক ভিসা প্রয়োজন হতে পারে।

 

কোন কাজ করা যাবে না

ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে চাকরি করা, কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের হয়ে নিয়মিত কাজ করা, বেতন নেওয়া, paid performance করা, ডিগ্রি বা একাডেমিক ক্রেডিটের জন্য পড়াশোনা করা কিংবা ভিসার উদ্দেশ্যের বাইরে দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমে জড়ানো অনুমোদিত নয়। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এর আগেও সতর্ক করে বলেছিল, বি১-বি২ ভিসায় paid employment, degree study বা academic credit নেওয়া যায় না।

 

এ ধরনের নিয়ম ভঙ্গ করলে ভিসা বাতিল, ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে জটিলতা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই আবেদনকারী ও ভিসাধারীদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সেই উদ্দেশ্যের বাইরে কাজ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিয়েও সতর্কতা

এর আগে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস ভিজিটর ভিসা ব্যবহার করে শুধু সন্তানের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। দূতাবাস জানায়, কনস্যুলার কর্মকর্তা যদি মনে করেন আবেদনকারীর প্রধান উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া, তাহলে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২০ সালের নীতিমালাতেও বলা হয়েছে, কোনো আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্তান জন্ম দিতে চাইছেন বলে কনস্যুলার কর্মকর্তার কাছে যুক্তিসঙ্গতভাবে মনে হলে বি ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে। পররাষ্ট্র দপ্তরের সাধারণ ভিসা নির্দেশনাতেও birth tourism-কে ভিজিটর ভিসা ইস্যুর গ্রহণযোগ্য ভিত্তি নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

তবে চিকিৎসার প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ আলাদা বিষয়। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা, চিকিৎসকের চিঠি, ব্যয়ের হিসাব এবং খরচ বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, মেডিকেল ট্রিটমেন্টের জন্য ভিজিটর ভিসা চাইলে স্থানীয় চিকিৎসকের রোগনির্ণয়, যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের চিঠি এবং চিকিৎসা ও থাকা-খাওয়ার ব্যয় বহনের প্রমাণ চাওয়া হতে পারে।

 

কেন বারবার সতর্ক করছে দূতাবাস

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ভিজিটর ভিসার নিয়ম মানার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশি বি১-বি২ আবেদনকারীদের জন্য ভিসা বন্ড সংক্রান্ত নিয়ম নিয়েও দূতাবাস আগে সতর্ক করেছে। ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পেজে উল্লেখ আছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের বি১-বি২ ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে বন্ড পরিশোধের শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।

 

দূতাবাসের সাম্প্রতিক বার্তাগুলো থেকে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্র ভিসার উদ্দেশ্য ও বাস্তব ব্যবহারের মধ্যে মিল আছে কি না, সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আবেদনপত্রে এক উদ্দেশ্য দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অন্য কাজে জড়ানো হলে তা ভিসার অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

 

ভিসাধারীদের জন্য বার্তা

মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তার মূল কথা হলো-বি১-বি২ ভিসা ভ্রমণ, অস্থায়ী ব্যবসায়িক সফর, চিকিৎসা বা পারিবারিক/পর্যটন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে; কিন্তু এটি চাকরি বা বেতনভিত্তিক কাজের অনুমতি নয়। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কী করবেন, কোথায় থাকবেন, কতদিন থাকবেন এবং কীভাবে খরচ বহন করবেন-এসব বিষয়ে পরিষ্কার ও সঠিক তথ্য দেওয়া জরুরি।

 

ভুল ভিসা ক্যাটাগরি ব্যবহার করলে শুধু বর্তমান ভ্রমণ নয়, ভবিষ্যৎ ভিসা আবেদনও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে ভিসার শর্ত ভালোভাবে জানা, প্রয়োজন হলে সঠিক ভিসা ক্যাটাগরিতে আবেদন করা এবং ভিসার নিয়ম মেনে চলাই নিরাপদ পথ।


সম্পর্কিত নিউজ