{{ news.section.title }}
জামিল-বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিচ্ছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা
যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা, ইউএসএফ। আগামী ৯ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তকালীন সমাবর্তনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এই সম্মাননা দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমাবর্তনের প্রতিটি পর্বের শুরুতে জামিল ও বৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। ডক্টরাল ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে মঞ্চে তাদের জন্য আনুষ্ঠানিক পোশাকসহ দুটি খালি চেয়ার রাখা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে নিহত দুই শিক্ষার্থীর একাডেমিক জীবন, স্বপ্ন ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজার ফেসবুক পোস্টের বরাতে জানা যায়, ইউএসএফ কর্তৃপক্ষ ৫ মে তারিখের এক চিঠিতে মায়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সমাবর্তনে উপস্থিত থেকে শোকাহত পরিবারের পক্ষ থেকে সম্মাননা গ্রহণের জন্য কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধিকে অনুরোধ করেছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট জামিল আহমেদ লিমন, বয়স ২৭, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি, বয়স ২৭, একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছিলেন।
দুই শিক্ষার্থী গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন। তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে এবং কোনোভাবে যোগাযোগ করা না গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর নিখোঁজের তদন্ত শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জামিলের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে তার পারিবারিক বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় আবর্জনা ফেলার কালো রঙের কয়েকটি ব্যাগের মধ্যে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে।
প্রথমে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ ছিলেন বলে জানানো হলেও পরে তার মরদেহও শনাক্ত করা হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্যাম্পা বে এলাকায় একটি আবর্জনার ব্যাগ থেকে পাওয়া মরদেহটি নাহিদা বৃষ্টির বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ডিএনএ, দাঁতের রেকর্ড এবং পোশাকের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন হিশাম সালেহ আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে দুইটি ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা ডিজিটাল তথ্য, নজরদারি ফুটেজ, জিপিএস ডেটা এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে মামলাটি এগিয়ে নিচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ এখনো হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি।
এই হত্যাকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সমাজ এবং বাংলাদেশের পরিবারগুলোকে গভীর শোকে আচ্ছন্ন করেছে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া দুই তরুণ-তরুণীর এমন মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। ইউএসএফ ক্যাম্পাসে এর আগে তাদের স্মরণে প্রার্থনা ও শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
জানা গেছে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ ৯ মে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বাংলাদেশ কনস্যুলেট, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ এরই মধ্যে দেশে ফিরেছে বলে প্রথম আলো জানিয়েছে। ৪ মে সকালে তার মরদেহ বহনকারী উড়োজাহাজ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের শোকে বিমানবন্দরে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরি হয়।
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার মরণোত্তর ডক্টরেট প্রদানের সিদ্ধান্ত নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর অসমাপ্ত স্বপ্নকে সম্মান জানানোর এক মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিবার ও সহপাঠীদের কাছে এই ডিগ্রি শুধু একাডেমিক স্বীকৃতি নয়, বরং জামিল ও বৃষ্টির অধ্যবসায়, মেধা এবং উচ্চশিক্ষার পথে তাদের সংগ্রামের স্মারক হয়ে থাকবে।