{{ news.section.title }}
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর অন্যতম সেরা ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। সোমবার (৬ জুলাই) মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে বজ্রঝড়ের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচে জুড বেলিংহামের জোড়া গোল এবং হ্যারি কেইনের পেনাল্টি থেকে করা গোল ইংলিশদের দারুণ এক জয় এনে দেয়। ১০ জন নিয়ে ম্যাচের শেষ অংশ খেলেও স্বাগতিকদের প্রবল চাপ সামলে জয় ধরে রাখে থমাস টুখেলের দল।
এই জয়ে ইংল্যান্ড টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে নরওয়ে, যারা একই দিনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে বড় চমক দেখিয়েছে।
মেক্সিকো সিটির প্রায় ২ হাজার ২৪০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত আজতেকা স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে দুই দল। প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে নিরাপত্তাজনিত কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর শুরু হয় খেলা। তবু দর্শকদের উচ্ছ্বাসে এতটুকু ভাটা পড়েনি। শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়েই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন জুড বেলিংহাম। ৩৬ ও ৩৮ মিনিটে মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই মিডফিল্ডার। বেলিংহামের দুই গোলেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বুকায়ো সাকা ও হ্যারি কেইন। তবে বিরতির আগে ৪২ মিনিটে হুলিয়ান কিনিওনেস গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন এবং স্বাগতিকদের ম্যাচে ফেরান।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইংল্যান্ড বড় ধাক্কা খায়। ৫৪ মিনিটে জ্যারেল কুয়ানসাহ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় থ্রি লায়ন্স। সংখ্যায় পিছিয়ে পড়লেও আক্রমণ থামায়নি ইংল্যান্ড। বরং ৬০ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের অর্জিত পেনাল্টি থেকে হ্যারি কেইন গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড অধিনায়কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গোল।
তবে মেক্সিকো লড়াই চালিয়ে যায়। ৬৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে রাউল হিমেনেজ গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-২। এরপর শেষ ২০ মিনিট একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে স্বাগতিকরা। কিন্তু গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং ইংল্যান্ডের সংগঠিত রক্ষণ শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হতে দেয়নি।
এই ম্যাচে জুড বেলিংহাম ছিলেন ইংল্যান্ডের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা। জোড়া গোলের পাশাপাশি মাঝমাঠে তাঁর নিয়ন্ত্রণ, বল দখল এবং রক্ষণে নেমে এসে বল উদ্ধার করার দক্ষতা ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁকেই ম্যাচসেরা পারফরমার হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।
আজতেকা স্টেডিয়াম ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ এক আবেগের নাম। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এই মাঠেই দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত 'হ্যান্ড অব গড' গোল এবং 'গোল অব দ্য সেঞ্চুরি'র ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল ইংল্যান্ড। ঠিক ৪০ বছর পর একই স্টেডিয়ামে নকআউট পর্বে জিতে নতুন এক সুখস্মৃতি যোগ করল থ্রি লায়ন্সরা। তবে ম্যাচের আগে কোচ থমাস টুখেল স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এটি কোনো প্রতিশোধের ম্যাচ নয়; বরং বর্তমান দলকে নিয়েই নতুন ইতিহাস গড়াই ছিল তাঁদের লক্ষ্য।
অন্যদিকে, স্বাগতিক মেক্সিকোর জন্য এটি ছিল হৃদয়ভাঙা বিদায়। ইকুয়েডরকে হারিয়ে দীর্ঘ ৪০ বছরের নকআউট জয়-খরা কাটানোর পর সমর্থকদের স্বপ্ন ছিল আরও দূর যাওয়ার। কিন্তু ইংল্যান্ডের কাছে হেরে আবারও শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হলো তাদের। তবু টুর্নামেন্টজুড়ে লড়াকু ফুটবল এবং ঘরের মাঠে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস মেক্সিকোর এই বিশ্বকাপ অভিযানকে স্মরণীয় করে রাখবে।
এখন ইংল্যান্ডের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ নরওয়ে। আর্লিং হলান্ডদের হারাতে পারলে ১৯৬৬ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছে যাবে থমাস টুখেলের শিষ্যরা।