{{ news.section.title }}
নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ
বিশ্বকাপের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সামনে এবার কঠিন এক পরীক্ষা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ নরওয়ে-যে দলের বিপক্ষে ইতিহাসে এখনো একটি ম্যাচও জিততে পারেনি সেলেসাওরা। তাই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শুধু বর্তমান ফর্ম নয়, অতীতের পরিসংখ্যানও চাপ বাড়াচ্ছে কার্লো আনচেলত্তির দলের ওপর।
বাংলাদেশ সময় ( ৬ জুলাই) 2:00 AM- এ নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হবে দুই দল। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে জাপানকে নাটকীয়ভাবে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। অন্যদিকে আর্লিং হলান্ডের নেতৃত্বে আইভরি কোস্টকে একই ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামছে নরওয়ে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, ব্রাজিলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু হলান্ড নন, বরং সেই নরওয়ে, যারা চারবারের দেখায় কখনোই ব্রাজিলের কাছে হারেনি। ১৯৮৮ সালে প্রথম সাক্ষাৎ ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। এরপর ১৯৯৭ সালের প্রীতি ম্যাচে ৪-২ গোলে জেতে নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে তোরে আন্দ্রে ফ্লো ও কিয়েতিল রেকদালের গোলে ২-১ ব্যবধানে ব্রাজিলকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা। সর্বশেষ ২০০৬ সালের প্রীতি ম্যাচও ১-১ গোলে ড্র হয়। অর্থাৎ চার ম্যাচে দুটি জয় ও দুটি ড্র নরওয়ের।
এই ইতিহাস অবশ্য বর্তমান ব্রাজিল শিবিরে খুব একটা প্রভাব ফেলছে না। কোচ কার্লো আনচেলত্তির মতে, অতীতের পরিসংখ্যান নয়, বর্তমানের পারফরম্যান্সই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করবে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, নরওয়ের মতো সংগঠিত দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ মানের ফুটবল খেলতে হবে।
আনচেলত্তি বলেছেন, হালান্ডকে থামানোর জন্য আলাদা কোনো গোপন পরিকল্পনা নেই। তাঁর মতে, বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারকে আটকাতে পুরো দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একই কথা বলেছেন ব্রুনো গুইমারায়েসও। নিউক্যাসলের এই মিডফিল্ডারের মতে, হালান্ডকে থামানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তাকে বল সরবরাহের পথ বন্ধ করে দেওয়া।
ব্রাজিলের জন্য অবশ্য সুখবরও আছে। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে নেইমার এখন পুরোপুরি ফিট। আনচেলত্তি জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তিনি পুরো ম্যাচ খেলতেও প্রস্তুত। জাপানের বিপক্ষে তাঁকে ব্যবহার করা হয়নি কৌশলগত কারণে। তবে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের গুরুত্ব বিবেচনায় তাঁকে মাঠে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
আরেকটি ইতিবাচক খবর রাফিনিয়ার প্রত্যাবর্তন। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে তিনি অনুশীলনে ফিরেছেন এবং স্কোয়াডে থাকবেন। তবে শুরু থেকেই খেলবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ তাঁর অনুপস্থিতিতে তরুণ উইঙ্গার রায়ান দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন। হাইতির বিপক্ষে রাফিনিয়া চোট পাওয়ার পর থেকে রায়ান দুটি গুরুত্বপূর্ণ গোলে অবদান রেখে আনচেলত্তির আস্থা অর্জন করেছেন। ফলে একাদশ নির্বাচন নিয়ে সুখকর সমস্যায় পড়েছেন ব্রাজিল কোচ।
তবে দুশ্চিন্তার নাম লুকাস পাকেতা। জাপানের বিপক্ষে পাওয়া হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে তিনি নরওয়ের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না। সৃজনশীল এই মিডফিল্ডারের অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের মাঝমাঠে নতুন সমন্বয় আনতে হচ্ছে আনচেলত্তিকে।
অন্যদিকে নরওয়ের আত্মবিশ্বাসের সবচেয়ে বড় উৎস আর্লিং হলান্ড। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টে পাঁচ গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও আছেন তিনি। কোচ স্টালে সলবাক্কেন অবশ্য তাঁর খেলোয়াড়দের সতর্ক করে বলেছেন, ব্রাজিলের নাম দেখে যেন তারা বাড়তি চাপে না পড়ে। বরং নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে পারলেই চমক দেখানো সম্ভব। তাঁর মতে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে জায়গা দেওয়া যাবে না এবং রক্ষণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সম্ভাব্য ব্রাজিল একাদশ: অ্যালিসন; দানিলো, মার্কিনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, ডগলাস সান্তোস; ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গুইমারায়েস, এডারসন; রায়ান, ম্যাথেউস কুনহা ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। নেইমার ও রাফিনিয়া বেঞ্চ থেকে শুরু করতে পারেন।
সম্ভাব্য নরওয়ে একাদশ: ওরইয়ান নাইল্যান্ড; মার্কুস হোমগ্রেন পেডারসেন, ক্রিস্টোফার আয়ের, তোরবিয়র্ন হেগেম, ডেভিড উলফ; প্যাট্রিক বার্গ, স্যান্ডার বের্গে, মার্টিন ওডেগার্ড; আন্তোনিও নুসা, আর্লিং হলান্ড ও আলেকজান্ডার সোরলোথ।
ইতিহাস বলছে, নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয় নেই। কিন্তু বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইতিহাস খুব কমই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সেই অপূর্ণতা ঘোচানোর লক্ষ্যেই মাঠে নামবে। অন্যদিকে নরওয়ে চাইবে হলান্ড-ওডেগার্ডদের নেতৃত্বে আরও একটি স্মরণীয় রাত উপহার দিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিতে।