{{ news.section.title }}
১৩১.৯ কিমি গতির শটে বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল কার?
বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরু হতেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবারের আসরের সবচেয়ে দ্রুতগতির শটে করা গোল। শুধু গোল নয়, সেই শট কত গতিতে নেওয়া হয়েছিল, সেটিও এখন আর অনুমানের বিষয় নয়। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতিটি শটের গতি, বলের ঘূর্ণন এবং গতিপথ নির্ভুলভাবে পরিমাপ করছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আর সেই বিশ্লেষণেই উঠে এসেছে চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সবচেয়ে শক্তিশালী শটের তালিকা।
ফিফার প্রকাশিত প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে সবচেয়ে দ্রুতগতির শটে গোল করেছেন সেনেগালের মিডফিল্ডার পাপে গেয়ে। ইরাকের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তাঁর নেওয়া শটের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৩১.৯৪ কিলোমিটার। এই গোলটি এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের দ্রুততম শট থেকে করা গোল হিসেবে তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
এই পরিসংখ্যান নির্ধারণে ব্যবহার করা হয়েছে ফিফার অত্যাধুনিক Connected Ball Technology। এবারের বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রিওন্ডা’র ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে Inertial Measurement Unit (IMU) সেন্সর। এই সেন্সর প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০০ বার বলের অবস্থান, গতি, স্পর্শ এবং ঘূর্ণনের তথ্য সংগ্রহ করে। পরে স্টেডিয়ামে স্থাপন করা একাধিক উচ্চগতির অপটিক্যাল ট্র্যাকিং ক্যামেরার সঙ্গে সেই তথ্য সমন্বয় করে প্রতিটি শটের গতি ও গতিপথ বিশ্লেষণ করা হয়। ফিফার দাবি, বলের ভেতরের সেন্সর এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যাতে বলের ওজন, ভারসাম্য কিংবা স্বাভাবিক উড়ার বৈশিষ্ট্যে কোনো প্রভাব না পড়ে।
এই প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সুইজারল্যান্ডের ইয়োহান মানজাম্বি। কানাডার বিপক্ষে তাঁর করা গোলের সময় বলের গতি ছিল ঘণ্টায় ১২৮.৭৩ কিলোমিটার। শুরুতে এই গোলটিই ছিল তালিকার শীর্ষে। তবে পরে পাপে গেয়ের শক্তিশালী শট সেটিকে ছাড়িয়ে যায়।
তৃতীয় স্থানে আছেন নরওয়ের থেলো আসগার্ড। ফ্রান্সের বিপক্ষে তাঁর গোলের সময় বলের গতি রেকর্ড করা হয় ঘণ্টায় ১২৫.৯৫ কিলোমিটার।
শীর্ষ দশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন কেপ ভার্দের কেভিন পিনাও। উরুগুয়ের বিপক্ষে প্রায় ৩১ গজ দূর থেকে নেওয়া তাঁর দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটের গতি ছিল ঘণ্টায় ১২৫.২২ কিলোমিটার। শুধু গতির জন্যই নয়, এই গোলটি ছিল কেপ ভার্দের ইতিহাসে বিশ্বকাপের প্রথম গোল, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
ফিফার তথ্যমতে, শেষ ষোলোর আগে প্রকাশিত তালিকার শীর্ষ দশের নয়টি গোলই এসেছে গ্রুপ পর্বে। নকআউট পর্ব থেকে জায়গা পাওয়া একমাত্র গোলটি করেছেন মিসরের মোহামেদ সাবের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাঁর গোলটিও সবচেয়ে দ্রুতগতির শটের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।
ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এখন শুধু গোল নয়, প্রতিটি শটের মান, গতি, বলের ঘূর্ণন, আঘাতের শক্তি এবং খেলোয়াড়ের অবস্থানও নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে কোনো শট কতটা শক্তিশালী ছিল কিংবা কোন গোলটি সবচেয়ে দ্রুতগতির, তা নিয়ে আর বিতর্কের সুযোগ থাকছে না।
ফিফা প্রথমবারের মতো এই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। পরে ২০২৩ নারী বিশ্বকাপেও একই প্রযুক্তি সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপেও অ্যাডিডাসের সহায়তায় সেই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করা হয়েছে। এর ফলে শুধু সেমি-অটোমেটেড অফসাইড নির্ধারণই নয়, দর্শক, সম্প্রচারকারী এবং কোচিং স্টাফরা ম্যাচ চলাকালেই বলের গতি, শটের শক্তি, স্পিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রিয়েল-টাইমে জানতে পারছেন।
প্রযুক্তিনির্ভর এই বিশ্লেষণ বিশ্বকাপকে শুধু আরও আধুনিকই করেনি, ফুটবল পরিসংখ্যানের নতুন এক যুগেরও সূচনা করেছে। আর সেই তালিকার শীর্ষে আপাতত নাম লিখিয়ে রেখেছেন সেনেগালের পাপে গেয়ে, যার ঘণ্টায় ১৩১.৯৪ কিলোমিটার গতির শট এখন পর্যন্ত ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে দ্রুতগতির গোল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।