{{ news.section.title }}
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েও ৩৮৯ কোটি টাকা পাচ্ছে নেইমাররা
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। কিন্তু শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। মাঠের পারফরম্যান্সে হতাশা থাকলেও আর্থিক দিক থেকে বড় অঙ্কের প্রাপ্তি নিয়েই বিশ্বকাপ শেষ করছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)।
ফিফার অনুমোদিত নতুন পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী, ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দেশকে প্রথমেই ১০.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অংশগ্রহণ ভাতা দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে প্রস্তুতি ব্যয়ের জন্য অতিরিক্ত ১.৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ফলে মাঠে একটি ম্যাচও না জিতলেও প্রতিটি দল নিশ্চিতভাবে ১২ মিলিয়ন ডলার পেয়ে যাচ্ছে।
ব্রাজিল গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করায় তারা আরও ১৫ মিলিয়ন ডলার পারফরম্যান্স বোনাস পাচ্ছে। সব মিলিয়ে সিবিএফের মোট প্রাপ্য দাঁড়িয়েছে ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায়, প্রতি ডলার ১৪৪ টাকা হিসেবে যার পরিমাণ প্রায় ৩৮৯ কোটি টাকা।
এবারের বিশ্বকাপে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে ফিফা। সংস্থাটির কাউন্সিল অনুমোদিত নতুন কাঠামো অনুযায়ী টুর্নামেন্টে মোট আর্থিক অবদান ৭২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার (৭২৭ মিলিয়ন ডলার)। এর মধ্যে ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার সরাসরি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বিতরণ করা হবে, আর বাকি অর্থ প্রস্তুতি ব্যয় ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল এবার পাবে ৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। রানার্সআপ দলের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পাবে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার এবং চতুর্থ স্থান পাওয়া দল পাবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানো চারটি দল প্রত্যেকে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার করে পাবে। শেষ ষোলোর আটটি দল পাবে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে। রাউন্ড অব ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্য বরাদ্দ ১ কোটি ১০ লাখ ডলার এবং গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া ১৬টি দল পাবে ৯ মিলিয়ন ডলার করে।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের পুরস্কার তহবিল প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ৩২ থেকে ৪৮ হওয়া, ম্যাচ সংখ্যা বেড়ে ১০৪-এ পৌঁছানো এবং সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক আয়ের বড় ধরনের বৃদ্ধির কারণে এই রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে ফিফা।
ব্রাজিলের জন্য এই অর্থ কেবল পুরস্কার নয়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনারও বড় ভিত্তি হতে পারে। জাতীয় দলের পুনর্গঠন, বয়সভিত্তিক ফুটবল উন্নয়ন, অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং কোচিং কার্যক্রমে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপে হতাশাজনক বিদায়ের পর নেইমারের আন্তর্জাতিক অবসর এবং কোচ কার্লো আনচেলত্তির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ফিফার এই আর্থিক প্রাপ্তি সিবিএফকে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।
যদিও মাঠে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেছে, তবু আর্থিকভাবে ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক বিশ্বকাপগুলোর একটিই শেষ করল ব্রাজিল। তবে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের কাছে শত শত কোটি টাকার এই পুরস্কারও হয়তো বিশ্বকাপ ট্রফি হারানোর বেদনা ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।