এমবাপ্পের চ্যালেঞ্জের জবাব দেবেন মেসি? গোল্ডেন বুটের লড়াই জমিয়ে দিলেন দুই মহাতারকা

এমবাপ্পের চ্যালেঞ্জের জবাব দেবেন মেসি? গোল্ডেন বুটের লড়াই জমিয়ে দিলেন দুই মহাতারকা
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ প্রান্তে এসে গোল্ডেন বুটের লড়াই যেন পরিণত হয়েছে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের ব্যক্তিগত এক মহারণে। একজন গোল করলেই অন্যজন পাল্টা জবাব দিচ্ছেন। টুর্নামেন্টজুড়ে চলা এই রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের পর পৌঁছেছে নতুন উচ্চতায়।

মায়ামিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছে ফ্রান্স। ম্যাচে জোড়া গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে গেছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।

 

৪৮তম মিনিটে প্রথম গোল করে এমবাপ্পে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২১-এ নিয়ে যান। এতে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে লিওনেল মেসির রেকর্ডে ভাগ বসান তিনি। তবে সেই সমতা স্থায়ী হয় মাত্র ১৮ মিনিট।

 

৬৬তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বিশ্বকাপে মোট ২২ গোলের মালিক হন এমবাপ্পে। মাত্র ২২ ম্যাচেই এই কীর্তি গড়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে যান ফরাসি এই ফরোয়ার্ড।

 

একই সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও বড় সুবিধা আদায় করে নেন তিনি। এখন এমবাপ্পের গোল ১০টি, অ্যাসিস্ট ৪টি। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির গোল ৮টি এবং অ্যাসিস্ট ৪টি। ফলে ফাইনালের আগে দুই গোলে এগিয়ে রয়েছেন ফরাসি তারকা।

 

তবে সুযোগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে মাঠে নামবেন মেসি। সেই ম্যাচেই এমবাপ্পের রেকর্ডে ভাগ বসানো কিংবা গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ফিরে আসার সুযোগ থাকবে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে।

 

তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের এই লড়াইকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন এমবাপ্পে। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, মেসি ফাইনালেও গোল করবেন।

 

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর Fox Sports-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে বলেন, ‘লিও সব সময়ই গোল করে। আমি নিশ্চিত, সেও আগামীকাল (ফাইনালে) গোল করবে।’

 

ফরাসি অধিনায়ক অবশ্য ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে না পারার আক্ষেপই বেশি অনুভব করছেন।

 

তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার চেয়ে আমি ফাইনালে খেলতে পারাটাই বেছে নিতাম। আমার কাছে সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়ে আলোচনা ভালো, কিন্তু এই মুহূর্তে আমার মাথায় সেগুলো নেই।’

 

এমবাপ্পে আরও যোগ করেন, ‘আমার কাছে বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার মূল্য যেকোনো ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে অনেক বেশি। আমি অবশ্যই আজ রাতে সেই ম্যাচে থাকতে চাইতাম।’

 

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে মেসি ও এমবাপ্পের এই লড়াই। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালেও দুজনই অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছিলেন। এবারও ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত গোলের প্রতিযোগিতা জমিয়ে রেখেছেন তারা।

 

এখন সব চোখ নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের দিকে। বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নেমে মেসি কি এমবাপ্পের চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে পারবেন, নাকি ফরাসি অধিনায়কই গোল্ডেন বুট ও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের দখলে রেখেই টুর্নামেন্ট শেষ করবেন-সেই উত্তর মিলবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচেই।


সম্পর্কিত নিউজ