{{ news.section.title }}
৬৮ বছর পর বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ড গড়ল ফ্রান্স-ইংল্যান্ড ম্যাচ
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেক সময়ই গুরুত্বহীন লড়াই বলা হয়। তবে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স সেই ধারণাই বদলে দিল। দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির লড়াইয়ে দেখা গেল ১০ গোলের এক অবিশ্বাস্য ফুটবল নাটক। শেষ পর্যন্ত বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিকের অনুপ্রেরণায় ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। তৃতীয় মিনিটেই ডেকলান রাইস গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ১৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরি কনসা। এরপর বুকায়ো সাকা ৩৭ ও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরও একটি গোল করে বিরতিতে ইংল্যান্ডকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
চার গোল পিছিয়ে থেকেও হাল ছাড়েনি ফ্রান্স। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল করে ব্যবধান কমান। এরপর ব্র্যাডলি বারকোলা ও আবারও এমবাপ্পের গোলে ম্যাচে দারুণভাবে ফিরে আসে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। একসময় মনে হচ্ছিল, অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব।
কিন্তু ফরাসিদের সেই আশা শেষ করে দেন সাকাই। ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ইংলিশ উইঙ্গার। যোগ করা সময়ে জুড বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত গোল ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করে। ফ্রান্সের হয়ে শেষ দিকে উসমান দেম্বেলেও একটি গোল করলেও পরাজয় এড়ানো সম্ভব হয়নি।
এই ম্যাচে জোড়া গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়েন। তার বিশ্বকাপে মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২২, যা লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়। একই সঙ্গে চলতি আসরে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও শীর্ষে উঠে যান ফরাসি অধিনায়ক।
অন্যদিকে বুকায়ো সাকা বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন। তার আগে ১৯৬৬ সালের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে একমাত্র ইংলিশ হিসেবে নকআউট পর্বে হ্যাটট্রিক করেছিলেন জিওফ হার্স্ট।
গোলবন্যার এই ম্যাচটি বিশ্বকাপ ইতিহাসেও বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। এটি বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। পাশাপাশি ১৯৮২ সালের পর বিশ্বকাপে প্রথমবার কোনো ম্যাচে দুই দল মিলে ১০ গোল করল।
জয়ের মাধ্যমে ১৯৬৬ সালের শিরোপা জয়ের পর বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সেরা ফলের একটি অর্জন করলেন টমাস টুখেল। অন্যদিকে এই ম্যাচই ছিল দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স কোচ হিসেবে শেষ দায়িত্ব। শিরোপা জিততে না পারলেও দুই দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল, ১০ গোলের রোমাঞ্চ আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।