ফরিদপুরে টিফিনে বন রুটির সঙ্গে কাঁচা কলা, শিক্ষিকা বরখাস্ত

ফরিদপুরে টিফিনে বন রুটির সঙ্গে কাঁচা কলা, শিক্ষিকা বরখাস্ত
ছবির ক্যাপশান, ফরিদপুরে টিফিনে বন রুটির সঙ্গে কাঁচা কলা, শিক্ষিকা বরখাস্ত

ফরিদপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের টিফিনে বন রুটির সঙ্গে কাঁচা কলা দেওয়ার অভিযোগে এক সহকারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ফরিদপুর সদর উপজেলার পূর্বখাবাসপুরে অবস্থিত ৯৩ নম্বর শহীদ সালাহ উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। গত রোববার দুপুরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বন রুটির সঙ্গে কলা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা রুটি খেতে পারলেও কলা কাঁচা থাকায় অনেকে তা খেতে পারেনি।

 

ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোলাপী বেগমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

 

গোলাপী বেগম বলেন, প্রধান শিক্ষক ছুটিতে থাকায় তিনি দায়িত্বে ছিলেন। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যেভাবে খাবার দিয়েছে, সেভাবেই তা গ্রহণ ও বিতরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা তাদের দেওয়া হয়নি।

 

তিনি দাবি করেন, প্রথম শিফটে দেওয়া কলাগুলো পাকা ছিল। দ্বিতীয় শিফটে থাকা কলাগুলো সাগর কলা, যা বাইরে সবুজ থাকলেও ভেতরে পাকা হতে পারে। তাই তিনি সেগুলো বিতরণ করেন।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশলেনা খাতুন বলেন, তিনি ওইদিন ছুটিতে ছিলেন। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে খাবার সরবরাহ করে না। তার দাবি, ঘটনার দায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের, শিক্ষকের নয়।

 

ফরিদপুর শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন বলেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাঁচা কলা দিলে শিক্ষকের দোষ কোথায়। তিনি দ্রুত বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান।

 

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, টিফিনের খাবার সাধারণত দুই দিন আগে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়। শনিবারে পৌঁছানো কলাগুলো সোমবারে বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু এক দিন আগে রোববার বিতরণ করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

 

ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীন বলেন, খাওয়ার অনুপযোগী কাঁচা কলা গ্রহণ ও বিতরণের অভিযোগে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মানহীন খাবার সরবরাহের বিষয়টি অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
 


সম্পর্কিত নিউজ