{{ news.section.title }}
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কক্সবাজার বিমানবন্দরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পৌঁছাতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার আগমনকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সফরসূচির প্রতিটি স্থানে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ইতোমধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়েছেন সরকারের একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে পর্যায়ক্রমে সেখানে উপস্থিত হন পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
এর আগে সকাল ৯টার দিকে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। কক্সবাজার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে করে তিনি সকাল ১০টার দিকে সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার বিমানবন্দর এলাকা এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিমানবন্দরে প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর। সফরকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন সড়ক, অনুষ্ঠানস্থল এবং জনসভাস্থলেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
কক্সবাজার সফরে প্রধানমন্ত্রী একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত পাতলী-মাছুয়াখালী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধন শেষে সেখানে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
এরপর বেলা সোয়া ১১টার দিকে সড়কপথে চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১২টায় সেখানে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ‘সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন এবং পার্কের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করবেন।
দুপুর সোয়া ১২টায় তিনি পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা মুরাপাড়া এলাকায় যাবেন। দুপুর ১টায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রথম শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খোঁজখবর নেবেন।
এরপর দুপুর দেড়টায় সেখান থেকে রওনা দিয়ে দুপুর ২টায় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পরে দুপুর পৌনে ৩টায় নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং বিশেষ মোনাজাতে শরিক হবেন।
জোহরের নামাজ আদায়ের পর বিকেল ৩টায় পেকুয়ার সাঈদ ম্যানশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টায় পেকুয়া থেকে চকরিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।
বিকেল ৪টায় চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের এ জনসভায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জনসভা শেষে বিকেল পৌনে ৫টায় কক্সবাজার শহরের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার সৈকত এবং মেরিন ড্রাইভ এলাকার বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করবেন। পর্যটন খাতের সম্ভাবনা ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কেও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য নেবেন বলে জানা গেছে।
দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষপর্বে রাত ৮টায় কক্সবাজারের লং বিচ হোটেল অডিটোরিয়ামে জেলার বিশিষ্ট নাগরিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে স্থানীয় উন্নয়ন, পর্যটন শিল্প, বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মতবিনিময় সভা শেষে রাত ৯টায় সপরিবারে বিমানযোগে কক্সবাজার ত্যাগ করে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জেলার রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কার্যক্রমের দিক থেকে সফরটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।