{{ news.section.title }}
ইলিয়াস আলীকে গুম ও ৩০ জন বিডিআরকে খুন করেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল
সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে গুমসহ অন্তত ৩০ জনকে হত্যার অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন এক সেনা সদস্য।
রোববার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন সেনা সদস্য ইমরুল কায়েস। তিনি আদালতকে জানান, চাকরি জীবনে তিনি জিয়াউল আহসানের বডিগার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ঘটনার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ তথ্য তার জানা হয়েছে।
সাক্ষ্যগ্রহণের সময় ইমরুল কায়েস দাবি করেন, জিয়াউল আহসান ১০ জন বিডিআর সদস্যকে ক্রসফায়ারের মাধ্যমে হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একইসঙ্গে তিনি বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীকে গুম করার ঘটনাও ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন বলে জানা যায়।
সাক্ষী আরও অভিযোগ করেন, জিয়াউল আহসানের নির্দেশনা বা সংশ্লিষ্টতায় মোট ৩০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। তার বক্তব্য আদালতে রেকর্ড করা হয় এবং মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুতর তথ্য উঠে এসেছে। এসব তথ্য মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকা অবস্থায় জিয়াউল আহসানকে ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে। তবে সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচাই করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। এরপর বিভিন্ন আলোচিত গুম, হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে একাধিক তদন্ত শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় গ্রেফতার করা হয় জিয়াউল আহসানকে।
পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে গুম ও হত্যা সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়। প্রাথমিক তদন্ত ও অভিযোগপত্র গ্রহণের পর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।