চবিতে বারবার শাটল সমস্যা, রেলওয়ের সাথে আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও চাকসু

চবিতে বারবার শাটল সমস্যা, রেলওয়ের সাথে আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও চাকসু
ছবির ক্যাপশান, জাগরণ ছবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটল ট্রেন সংকট নিরসনে রেলওয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা জোরদার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উভয় পক্ষই সমাধানের পথে এগোনোর ব্যাপারে একে অপরকে আশ্বাস দিয়েছে । সোমবার (৪ মে ২০২৬) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ে (পূর্ব) এর জেনারেল ম্যানেজারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ে (পূর্ব) এর জেনারেল ম্যানেজার মো. সুবক্তগীনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা, প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) মো. তানভিরুল ইসলাম, প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (পূর্ব) সাদেকুর রহমান, প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (পূর্ব) তারেক মোহাম্মদ সামছ তুষার, চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পূর্ব) মোহাম্মদ সফিকুর রহমান, প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (পূর্ব) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী (পূর্ব) মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, চিফ কমান্ড্যান্ট আরএনবি (পূর্ব) মো. জহিরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের এসপি তহুরা জান্নাত।

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী, সহকারী প্রক্টর ড. মো. কামরুল হোসেন, হিসাব নিয়ামক মো. আমিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এছাড়া চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব, এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক, যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক মো. ইসহাক ভুঞা এবং সহ-যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ওয়াইদুল সালমান উপস্থিত ছিলেন।

 

বৈঠকে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর প্রধান যাতায়াত মাধ্যম শাটল ট্রেন হওয়ায় এ সেবাকে আরও সহজ, আরামদায়ক ও নিরাপদ করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন।

 

এসময় চাকসু প্রতিনিধিরা শাটল ট্রেনের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। তাদের দাবির মধ্যে ছিল ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি, ডাবল লাইন স্থাপন, কোচ ও ইঞ্জিন বাড়ানো, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা কর্মী বৃদ্ধি, পাথর নিক্ষেপ প্রতিরোধ এবং শিডিউল বিপর্যয় রোধ। পাশাপাশি স্টেশন উন্নয়ন ও পাওয়ার-কার সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।

 

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, কিছু সমস্যা স্বল্প সময়ের মধ্যেই সমাধান করা সম্ভব হলেও বড় ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সময়সাপেক্ষ। তবে কোচ ও ইঞ্জিন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়।

 

সভা শেষে উপাচার্য আগত প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রেলওয়ে প্রতিনিধিরাও সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
 


সম্পর্কিত নিউজ