{{ news.section.title }}
রাবির মতিহার হলের গাছ থেকে লিচু পেড়ে রুমে রুমে পৌঁছে দিলেন হল সংসদের নেতারা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মতিহার হলের গাছ থেকে লিচু পেড়ে প্রতিটি রুমে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৪ মে) বেলা ২টায় সবার রুমে লিচু পৌঁছে দিতে দেখা যায় হল সংসদের নেতাদের। এসময় উপস্থিত ছিলেন হল সংসদের ভিপি মো. তাজুল ইসলামসহ হল সংসদের অন্যান্য নেতারা। পুরো কার্যক্রমটি হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করে।
জানা যায়, প্রায় ৫ হাজার লিচু সংগ্রহ করে পিএইচডি ব্লকসহ ২৪০টি কক্ষে ও হলের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়। প্রতিটি কক্ষে ২০-৩০টি করে লিচু পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্যও হল সংসদের রুমে কিছু লিচু রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়, যাতে তারা এলে তাদের মাঝেও লিচুগুলো বণ্টন করা যায়। হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরাও এই বণ্টন কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।
লিচু পেয়ে মতিহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, বিগত সময়ে যখন হল সংসদ চালু ছিল না, তখন ছাত্রলীগের আমলে তারা লিচুগুলো নিয়ে যেত। এখন হল সংসদ চালু হওয়ায় সমতার ভিত্তিতে রুমে রুমে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এতে আমরা অনেক আনন্দিত। হল সংসদকে ধন্যবাদ জানাই এমন সুন্দর উদ্যোগের জন্য। তিনি আরও বলেন, হলের ফল এভাবে সবার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া তৈরি হয়েছে।
মতিহার হল সংসদের ভিপি তাজুল ইসলাম বলেন, মতিহার হল সংসদের উদ্যোগে ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় হলে যে একমাত্র লিচু গাছটি রয়েছে, তা থেকে লিচু পেড়ে সব লিচু বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। আমরা অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য হল সংসদের রুমে লিচু রেখে দিয়েছি। তারা এলে তাদের মাঝেও লিচুগুলো বণ্টন করে দেওয়া হবে। হলে সকল শিক্ষার্থীর সহায়তায় আমরা এতদিনে লিচুগুলো পরিপক্ব করতে পেরেছি।
হলের শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানাই। তারা যদি আমাদের সহায়তা না করতো তাহলে আমরা লিচুগুলো বণ্টন করতে পারতাম না। হলের এসব ফল পাড়ার আনন্দ আমাদের শৈশবের কথা মনে করিয়ে দেয়। এই উৎসবমুখর পরিবেশ অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার কারণেই উদ্যোগটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষার্থীরা জানান, এমন উদ্যোগ হলের ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সমতার পরিবেশকে আরও দৃঢ় করে। ছোট একটি আয়োজন হলেও এটি আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।